শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

সিলেটের স্কুলে প্রতিবন্ধীবান্ধব হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, উদ্যোগের আশ্বাস সিসিকের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬/১০/২০২৬ ১১:৪৭:২১ পূর্বাহ্ন

সিলেটের স্কুলে প্রতিবন্ধীবান্ধব হাত ধোয়ার ব্যবস্থা নেই, উদ্যোগের আশ্বাস সিসিকের


একটি বেসিন, পানির কল ও হাত ধোয়ার জায়গা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য যা সহজলভ্য, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য তা-ই হয়ে উঠতে পারে বাধা। বেসিনের উচ্চতা, হুইলচেয়ার নিয়ে কাছে পৌঁছানোর অসুবিধা কিংবা অনুপযোগী নকশার কারণে অনেক শিশুকে হাত ধোয়ার মতো দৈনন্দিন কাজেও অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।

সিলেট নগরের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উপযোগী পৃথক হাত ধোয়ার ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থায় এসব শিশুর প্রয়োজন কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলোতে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছে কি না, তা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খোঁজ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

সিলেট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের সহকারী শিক্ষক অর্চনা রানী দেব বলেন, তাঁদের স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হাত ধোয়ার জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। সবাইকে একটি ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়।

তিনি বলেন, স্কুলটিতে দুই ধরনের শিশু রয়েছে। কিছু শিশুর হাত ধোয়ার জন্য সহায়তা প্রয়োজন হয়, অন্যরা নিজেরাই কাজটি করতে পারে। সরকার স্কুলটির দিকে নজর দিয়ে সহযোগিতা করলে শিশুরা আরও ভালো সুবিধা পেত বলে মনে করেন তিনি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সব শিশুর সক্ষমতা এক নয়। কেউ নিজে হাত ধুতে পারে, আবার কারও প্রয়োজন হয় অন্যের সাহায্য। ফলে সবার জন্য একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্ভুক্তিমূলক নকশার লক্ষ্য হওয়া উচিত শিশুর শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে হাত ধোয়ার সুযোগ দেওয়া।

এ জন্য শুধু বেসিন ও পানির সংযোগ থাকলেই হবে না, সেটি বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি। বেসিনের উচ্চতা, নিচে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা, সহজে ব্যবহারযোগ্য কল এবং চলাচলের পথ প্রতিবন্ধীবান্ধব হওয়া প্রয়োজন।

প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র সিলেটের কনসালট্যান্ট ফিজিওথেরাপিস্ট মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের হাত ধোয়ার সুবিধা নিশ্চিত করতে বেসিনের উচ্চতা ও নকশার পাশাপাশি চলাচলের জায়গাও উপযোগী করতে হবে।

তাঁর ভাষ্য, প্রচলিত বেসিনের স্ট্যান্ড, কলের নকশা ও অতিরিক্ত উচ্চতার কারণে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুদের হাত ধোয়া কঠিন হয়ে পড়ে। শুধু হাত ধোয়ার জায়গা নয়, শৌচাগারেও প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। র‍্যাম্প, প্রশস্ত দরজা, প্রতিবন্ধীবান্ধব কমোড ও সহায়ক রেলিংয়ের মতো সুবিধা না থাকলে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী শিশুরা শৌচাগার ব্যবহারে সমস্যায় পড়তে পারে।

মোহাম্মদ আবদুল কাদের বলেন, প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি সঠিক নকশা, কার্যকর বাস্তবায়ন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছাও জরুরি।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ফাইহা জাহান রিহার অভিভাবক রুহিন জাহাঙ্গীর ঢাকা পোস্টকে বলেন, বেসিনের উচ্চতা ও ব্যবহারের ব্যবস্থা শিশুর উপযোগী না হলে হাত ধোয়ার মতো সাধারণ কাজও কঠিন হয়ে পড়ে। শিশু যেন নিজের প্রয়োজন নিজেই মেটাতে পারে, সে জন্য উপযুক্ত বেসিন, সহজে ব্যবহারযোগ্য কল ও চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা জরুরি।

তিনি বলেন, এসব সুবিধা না থাকলে শিশুকে অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরেক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর অভিভাবক আসমা বেগমও একই ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্কুলে বেসিনের উচ্চতা উপযুক্ত না হলে কিংবা সহজে কল ব্যবহারের সুযোগ না থাকলে শিশুদের অন্যের সাহায্য নিতে হয়। শিশুরা যেন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী স্বাধীনভাবে হাত ধুতে পারে, সে জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখার দাবি জানান তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাত ধোয়ার সুবিধা নিশ্চিত করা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। সেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী আছে কি না, বিদ্যমান সুবিধা তারা ব্যবহার করতে পারছে কি না এবং কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন এসব বিষয় পর্যালোচনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হলেও এতদিন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিষয়টি সেভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এখন থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কর্মশালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশন পরিচালিত স্কুলগুলোতে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী আছে কি না, তা খোঁজ নেওয়া হবে। এ ধরনের শিক্ষার্থী থাকলে তাদের উপযোগী হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে পূর্ত শাখায় প্রস্তাব দেওয়া হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু রয়েছে এমন অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এ বিষয়ে সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর