সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন

২৭ বছর ধরে অচল সেতু, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০৯:৪৬:১১ পূর্বাহ্ন

২৭ বছর ধরে অচল সেতু, ভোগান্তিতে ১০ গ্রামের মানুষ


মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ২৭ বছর আগে নির্মিত একটি সেতু সংযোগ সড়কের অভাবে আজও কোনো কাজে আসছে না। জলাশয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটির দুই পাশে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় চলাচল করতে পারছে না কোনো যানবাহন। ফলে কান্দিগাঁওসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমনকি অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদেরও ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে সেতু পার হতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে একটি জলাশয়ের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে সেতুর দুই পাশে রাস্তা থাকলেও সংযোগস্থলে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতু দিয়ে প্রতিদিন কান্দিগাঁও, বন্দেরগাঁও, পশ্চিম জালালপুর, হকতিয়ারখোলা, হিরামতি ছয়সিড়িসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ সড়কের দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় তিন দশক আগে কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা চিন্তা করে এখানে সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতু নির্মাণের পর এলাকাবাসী যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। সেতুর দুই পাশে সড়ক থাকলেও সম্মুখভাগে পর্যাপ্ত মাটি ভরাট না থাকায় কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। বিশেষ করে রোগীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এত ভোগান্তির পরও সেতুটি চলাচলের উপযোগী করতে কেউ কার্যকর উদ্যোগ নেননি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশে সাধারণ মানুষকে অনেক কষ্ট করে পায়ে হেঁটে উঠতে হয়। বয়স্ক ব্যক্তিরা অন্যের সাহায্য ছাড়া সেতুতে উঠতে পারেন না। রাস্তা থেকে প্রায় ৫-৬ ফুট উঁচুতে সেতুটির অবস্থান হওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টির দিনে সেতু পারাপারের সময় অনেক মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হন।

সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করা হলে ৮ থেকে ১০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়ে আসত। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় অতি প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে তিন থেকে চার কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

অটোরিকশাচালক নূরুল ইসলাম বলেন, “সেতুর কাছে এসে সব ধরনের যানবাহন আটকে যায়। সেতুর দুই পাশে যানবাহন চলাচলের উপযোগী সড়ক রয়েছে। তবে সেতুতে ওঠার সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কেউ উদ্যোগ নিয়ে সেতুর দুই পাশ ভরাট করলেও যানবাহন চলাচল করা সম্ভব হতো।”

স্থানীয় বাসিন্দা রোকশানা বেগম ও আব্দুল খালেক বলেন, “তিন দশক ধরে সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট ও সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় এটি আজও অচল। আমরা কত কষ্ট করে জীবনযাপন করি, তা ভাষায় বলতে পারব না। সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের অভাবে একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ ও বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়। সেতুতে উঠতে না পারায় অনেক বৃদ্ধ মসজিদে নামাজ পড়তে যেতে পারেন না। কেউ অসুস্থ হলে যানবাহন চলাচল না করায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া যায় না।”

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাইফুল আজম বলেন, “সেতুর বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়েছে। সেতুর দুই পাশের মাটি ভরাটসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আজকের সিলেট / জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর