শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু গ্রেপ্তার
বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১০ PM

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু গ্রেপ্তার

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/০৯/২০২৬ ১১:০৯:৪০ AM

শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানু গ্রেপ্তার


চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরির দাবিতে আন্দোলন চলার মধ্যেই মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিক নেত্রী গীতা রানী কানুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একটি মামলায় আসামি হিসেবে গতকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে গীতা রানী কানুকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চা শ্রমিকদের ৫০০ টাকা সর্বনিম্ন মজুরির দাবিতে এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের প্রায় ৫০টি চা বাগানে শ্রমিকরা একযোগে দুই ঘণ্টা কর্মবিরতিও পালন করছেন।

মামলার সূত্রপাত গত ৩১ আগস্টের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। প্রত্যক্ষদর্শী বিষু প্রসাদ গোয়ালার ভাষ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গল চৌমোহনা থেকে লেবার ইউনিয়ন পর্যন্ত মানববন্ধন ও মিছিলের বিষয়টি আগে থেকেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। কর্মসূচি শেষে কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর বৃষ্টির কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

কিশোর প্রধানের অভিযোগ, এ সময় চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী, সুভাষ রবিদাস, বিজয় হাজরা, নৃপেন পাল, পঙ্কজ কন্দ ও ইউনিয়নের স্টাফ দুলাল হাজরা তাদের ওপর হামলা করেন। তার দাবি, দুলাল হাজরা ‘রডের মতো কিছু’ দিয়ে জনক লাল দেশোয়ারা জনি নামে এক কর্মীকে ইউনিয়ন কার্যালয়ের ভেতরে নিয়ে মারধর করেন। পরে আহত জনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও মামলা দায়েরকারী নিপেন পাল। তার দাবি, মানববন্ধন শেষে শ্রমিকরা লেবার হাউসে ঢুকে হাঙ্গামা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় দুটি গ্লাস ভাঙচুর করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

নিপেন পাল জানান, এ ঘটনায় গীতা রানী কানুসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে অফিস দখল ও ভাঙচুরের মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন কিশোর প্রধান। তার ভাষ্য, শ্রমিকরা ইউনিয়ন কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেননি। এ বিষয়ে প্রশাসনকে আগে অবহিত করার প্রমাণ এবং ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে ঢুকে মারামারি ও গ্লাস ভাঙচুরের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এতে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর গীতা রানী কানুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর