একসময় সিলেট নগরীতে প্রায় ৯০০টি পুকুর ও ডোবা থাকলেও নগরায়ণের চাপে এর অধিকাংশই ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট জলাশয়গুলো রক্ষা ও হারিয়ে যাওয়া জলাশয় উদ্ধারের মাধ্যমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। বুধবার সকালে নগরের দরগা গেইট এলাকার একটি হোটেলের হলরুমে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) ও এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, জলাশয় নগরের পানি ধারণের পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া জলাশয় ও ডোবাগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরের কয়েকটি জলাশয় পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও নগরবাসীকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে জলাশয় উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সিসিক প্রশাসক জানান, একসময় সিলেট নগরে প্রায় ৯০০টি পুকুর ও ডোবা ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এসবের অনেকগুলো ভরাট করে স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সামান্য কিছু জলাশয় অবশিষ্ট রয়েছে। এর পাশাপাশি সুরমা নদীর পানি ধারণক্ষমতাও আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
তার ভাষ্য, অতীতে অল্প সময়ের বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিত এবং পানি মানুষের বাড়িঘরে ঢুকে পড়ত। এতে ব্যাপক দুর্ভোগে পড়তেন নগরবাসী।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন ড্রেন ও ছড়াগুলো পরিষ্কার করার পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে। পানি প্রবাহের পথ সচল রাখার এসব উদ্যোগের সুফল এরই মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এবার অতিবৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন শহর ডুবে গেলেও সিলেট নগরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। সম্মিলিত উদ্যোগের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে ৪ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট নগরবাসী বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবেন।
একটি উন্নত ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সিসিক প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ছড়া, ড্রেন ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। একই সঙ্গে জলাশয় ও ডোবা উদ্ধারের উদ্যোগেও সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করতে হবে। নগরবাসী সচেতন ও দায়িত্বশীল হলে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও জলাবদ্ধতামুক্ত সিলেট গড়ে তোলা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে এসএনভির নগরভিত্তিক পানি চক্রের টেকসই রূপান্তর প্রকল্পের ক্লাস্টার কো-অর্ডিনেটর মোছাম্মদ রাহিমা বেগমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









