খোয়াইয়ের ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে ৮ কোটি টাকার ফসলহানি
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৯ PM

খোয়াইয়ের ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে ৮ কোটি টাকার ফসলহানি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৬ ০২:৪৩:৪৫ PM

খোয়াইয়ের ভাঙন ও পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে ৮ কোটি টাকার ফসলহানি


খোয়াই নদীর ভাঙন এবং পরপর চার দফা পাহাড়ি ঢলের পানিতে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। রোপা আমন, আউশ ধান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোট ৮ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। এতে লস্করপুর, পইল ও তেঘরিয়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫০ জন কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বেড়ে যায়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ এলাকায় নদীভাঙন দেখা দিলে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে তিনটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে আমন, আউশ ও শাকসবজির আবাদ নষ্ট হয়।

কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, লস্করপুর ইউনিয়নে রোপা আমনের ৮৭ হেক্টর, আউশ ধানের ৩০ হেক্টর এবং শাকসবজির ২৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বাইরে ইউনিয়নটির আরও ৮৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি আংশিক ক্ষতির শিকার হয়েছে।

পইল ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোপা আমনের ২৩ হেক্টর ও আউশ ধানের ১০ হেক্টর জমি। তেঘরিয়া ইউনিয়নে রোপা আমনের ২৫ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষকের সংখ্যার দিক থেকেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লস্করপুর ইউনিয়নে। সেখানে রোপা আমনের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ৫২২ জন, আউশ ধানে ৩৩০ জন এবং শাকসবজিতে ২৫০ জন। পইল ইউনিয়নে রোপা আমনে ১৩৮ জন ও আউশ ধানে ৬০ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তেঘরিয়া ইউনিয়নে রোপা আমনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন ১৫০ জন কৃষক।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভাষ্য, চার দফায় খোয়াই নদীর পানি প্রবেশ করায় একই জমি একাধিকবার প্লাবিত হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিয়ে আবাদ করা ধান ও সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ফসলহানির পাশাপাশি ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

আব্দাখাই এলাকার কৃষক তৌহিদ মিযা বলেন, এক এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে শসা খেত করেছিলেন। শসা বাগানে যখন ফুল ফুটতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই নদীভাঙনের পানি এসে পুরো আবাদ নষ্ট করে দেয়। তাঁর আশা ছিল শসা বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন। এখন জমি বিক্রি করে এনজিওর ঋণ শোধ করতে হবে বলে তিনি জানান।

কালিগঞ্জ এলাকার মমতা বেগম বলেন, ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পুঁই শাকের বাগান করেছিলেন। বন্যার পানিতে সেই বাগানের সবকিছু নষ্ট হয়ে এখন শুধু বাঁশের লাঠি দাঁড়িয়ে আছে। দিনমজুর স্বামীর পক্ষে এই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

কৃষকদের অভিযোগ, খোয়াই নদীর ভাঙন ঠেকাতে টেকসই উদ্যোগের অভাব এবং বাঁধ নির্মাণের কাজ দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই তাদের বারবার এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তারা দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পরবর্তী মৌসুমে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়ারও দাবি রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মাকসুদুল আলম ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খোয়াই নদীর পানি বৃদ্ধি ও ভাঙনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জমি এবং কৃষকদের প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর