সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের কাজ শেষ না করেই বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ৯ প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
নোটিশ পাওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো, আশারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিঘলবাক (খ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গণেশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরপুর মহল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মোহাম্মদপুর সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এসব ৯টি বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত কাজের জন্য মোট ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই অর্থ দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার কথা।
তবে তদারকিতে দেখা যায়, মেরামতের কোনো কাজ না করেই বরাদ্দের টাকা উত্তোলনের জন্য অসম্পূর্ণ ভাউচার দাখিল করা হয়েছে। ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গত ৩ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম স্বাক্ষরিত নোটিশে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকদের আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুবাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিপেশ দাস এবং মক্রমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরজ্জন বর্মন। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে সংস্কার কাজ শেষ করার পরই তারা ভাউচার জমা দিয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুর আলম বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কাজ না করেই অফিসে ভাউচার জমা দেওয়ার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
আজকের সিলেট/ জেকেএস
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








