বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু: স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৫ PM

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু: স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৬/০৯/২০২৬ ০৫:৩৮:৩৬ PM

বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু: স্বামীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা


মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গৃহবধূ মরিয়ম আক্তার মুন্নির (২২) মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী, শাশুড়ি, ননদ, ভাসুর ও জাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মুন্নির মা মোছা. রেনু বেগম বড়লেখা থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে যৌতুকের পাঁচ লাখ টাকা এবং ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মানসিক চাপের একপর্যায়ে মুন্নি আত্মহত্যা করেন।

এর আগে গত ২১ আগস্ট উপজেলার মুড়িরগুল এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে মুন্নির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা এ নিয়ে তখন এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রায় চার বছর আগে মুড়িরগুল এলাকার মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে লাভলু আহমদের সঙ্গে মুন্নির বিয়ে হয়। তাঁদের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। লাভলু বর্তমানে সৌদি আরবে থাকেন।

মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। ওই টাকা দিয়ে লাভলু সৌদি আরবে গাড়ি কিনবেন বলে তাঁকে চাপ দেওয়া হতো। দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় মুন্নিকে বিভিন্ন সময় গালিগালাজের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তুলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেওয়ার জন্যও মুন্নির ওপর চাপ ছিল। একপর্যায়ে তাঁর বাবা জামিনদার হয়ে মুন্নির নামে একটি বেসরকারি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দেন। পরে সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে মুন্নির ওপর ফের চাপ সৃষ্টি করা হয়।

পরিবারের দাবি, ২১ আগস্ট ঘটনার দিন পিত্রালয় থেকে টাকা এনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য মুন্নিকে চাপ দেওয়া হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। ওই সময় নির্যাতনের কিছু অডিও পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়েছিলেন মুন্নি। তাঁর মায়ের দাবি, স্বামীর কাছ থেকেও ফোনে হুমকি ও মানসিক চাপ দেওয়া হতো।

পরে ওই দিন দুপুরের দিকে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি মুন্নির বাবাকে ফোন করে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। পরিবারের সদস্যরা শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায়।

মুন্নির মা রেনু বেগমের অভিযোগ, মেয়ের লাশ গোসল করানোর সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তাঁরা। নির্যাতনের অডিও ও ভিডিও তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দীর্ঘদিনের নির্যাতন, মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার কারণে মুন্নি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।


এর আগে মুন্নির বাবা মকবুল আলী বড়লেখা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মা লিখিত অভিযোগ করেন।


বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর