অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে শিশুসন্তান নিয়ে উধাও, পরে উদ্ধার করল পুলিশ
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ PM

অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে শিশুসন্তান নিয়ে উধাও, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৯/২০২৬ ১১:৪৭:৩৪ AM

অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে শিশুসন্তান নিয়ে উধাও, পরে উদ্ধার করল পুলিশ


অস্ত্রোপচারের পর সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্ত্রীকে রেখে দুই মাসের সন্তানকে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন স্বামী। সন্তানকে কাছে না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন মা; এদিকে মায়ের বিচ্ছেদে কাঁদতে থাকে শিশুটিও। হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে শেষ পর্যন্ত দিরাইয়ের দুর্গম ভাটিয়াগাঁও গ্রামে নৌকায় করে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাবার মাধ্যমেই তাকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মায়ের কাছে পৌঁছান বাবা মো. নিপুন মিয়া (৩০)। এর আগে ভোর ৫টার দিকে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের চতুর্থ তলার ৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দুই মাসের ছেলে মো. আতিকুলকে নিয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন মা রাজিয়া বেগম।

পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে বিষয়টি জানার পর দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম শিশুটিকে উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। পরে দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের দুর্গম ভাটিয়াগাঁও গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির সন্ধান পান তিনি। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাবার কাছে দেওয়া হয় এবং তাঁকে বুঝিয়ে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

নিপুন মিয়ার বাড়ি দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের ভাটিয়াগাঁও গ্রামে। প্রায় ১২ বছর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বানর এলাকার মোছা. বিনা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের চার সন্তান। বড় মেয়ের বয়স ৮ বছর, দ্বিতীয় সন্তান ছেলে ৬ বছর এবং তৃতীয় সন্তান মেয়ের বয়স ৫ বছর। তারা বাড়িতে দাদা ও চাচা-চাচির কাছে রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে বিনা বেগমের পিত্তনালীতে পাথর ধরা পড়ে। ২০ দিন আগে তাঁকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আট দিন আগে অস্ত্রোপচার করে পিত্তনালীর পাথর অপসারণ করা হয়।

চিকিৎসার খরচ স্বামীর দেওয়ার কথা থাকলেও দিনমজুর জামাতাকে সহায়তা করতে বিনার মা মিনারা বেগম দেড় লাখ টাকার জমি বিক্রি করেন। এই টাকা নিয়ে পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

বিনা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী শাশুড়ির জমি বিক্রির টাকা নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে কলহের জেরে তাঁকে হাসপাতালে রেখেই দুই মাসের শিশুকে নিয়ে বাড়ি চলে যান নিপুন মিয়া।

সন্তান ও স্বামীকে হাসপাতালে না পেয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকে বিষয়টি জানান বিনা বেগম। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, ভোর ৫টার দিকে শিশু আতিকুলকে নিয়ে নিপুন মিয়া ও তাঁর মা রাজিয়া বেগম হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গেছেন।

বিনা বেগম বলেন, তিনি ২০ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। আট দিন আগে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়েছে, এতে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাঁর মা দেড় লাখ টাকার জমি বিক্রি করেছেন। স্বামী ওই টাকা নিজের কাছে রাখতে চাওয়ায় তাঁদের মধ্যে বিরোধ হয়। এর জেরে তাঁকে না জানিয়ে ভোরে দুধের শিশুকে নিয়ে বাড়ি চলে যান তাঁর স্বামী।

তিনি বলেন, সন্তানকে কাছে না পেয়ে তাঁর বুকে দুধ জমে ব্যথা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, স্বামী দিনমজুর এবং প্রায়ই তাঁকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ও মারধর করেন। এরপরও স্বামী-সন্তানের কথা ভেবে তিনি সংসার করে আসছেন।

নিপুন মিয়া বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। মাথা গরম থাকায় ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছিলেন তিনি। ওসি বাড়িতে যাওয়ার পর আবার ছেলেকে নিয়ে তার মায়ের কাছে যাচ্ছেন।

দিরাই থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বামী-স্ত্রীর কলহের জেরে অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে দুই মাসের শিশুকে নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পর তাঁর বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাবাকে বুঝিয়ে আবার মায়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ওসি বলেন, ‘এত ছোট শিশু মাকে ছাড়া থাকতে পারে না। হাসপাতাল থেকেও জানানো হয়েছিল, সন্তান কাছে না থাকায় মা কষ্ট পাচ্ছেন। খবর পাওয়ার পর দ্রুত নৌকায় করে দুর্গম এলাকায় গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।’

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর