সিকৃবিতে ভেটেরিনারি অনুষদের জুনিয়রদের ওপর হামলা; আহত ২ জুনিয়র শিক্ষার্থী
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ PM

সিকৃবিতে ভেটেরিনারি অনুষদের জুনিয়রদের ওপর হামলা; আহত ২ জুনিয়র শিক্ষার্থী

সিকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬/০৯/২০২৬ ০৬:৩৮:২৯ PM

সিকৃবিতে ভেটেরিনারি অনুষদের জুনিয়রদের ওপর হামলা; আহত ২ জুনিয়র শিক্ষার্থী


কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ৩১ ব্যাচের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ৩২ ব্যাচের জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ৩২ ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সকালে ফুটবল ম্যাচের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সমাধানের উদ্দেশ্য ৩১ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের রাত দশটায় ডাকে। সেখানে একপর্যায়ে জুনিয়রদের উপর হামলা করে সিনিয়ররা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩২ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, "আজকে ফুটবল খেলার সময় ৩১ ব্যাচের হুমায়ুন ভাইকে পাঁচ পাস করার সময় একটু ধাক্কাধাক্কি হয়। মিনহার হাতটা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভাইয়ের গায়ে লাগে। এরপর হুমায়ুন ভাই চুল বা গলা ধরে ঘুরায় এবং গালিগালাজ করে। এতে সে মাঠ থেকে উঠে যায়, আমরাও উঠে যাই। পরে বিষয়টি মাঠেই সমাধান করার জন্য ভাইদের বললেও তারা বলে, ‘তোদের সাথে কোনো সলভ হবে না, তোরা চলে যা।’ পরে রাত ১০টার দিকে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা আবার ডাকে। অডিটোরিয়ামে যাওয়ার পর আমাদের গালিগালাজ করা হয় এবং কী হয়েছে তা এক্সপ্লেইন করতে বলা হয়। একপর্যায়ে ৩১ ব্যাচের সিফাত ভাই আমাদের গালিগালাজ শুরু করে এবং রাফভাবে ব্যবহার করে। আমরা বলি, ‘ভাই গালি দিলেন কেন? গালি দেওয়া যাবে না।’ এরপর তিন-চারজন ভাই মারমুখী হয়ে আসে। আমি হুমায়ুন ভাইকে ঠেকাইয়া দিই। অন্যদিকে নাহিদ গালি দেওয়া যাবে না বলায় তাকে মারতে যায় এবং বুক-মাথায় শট দেয়। পরে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। মাথায় ঘুষি মারে। আরও দুই-তিনজনও ঘুষি-টুসি খায়। হুমায়ুন ভাই, পার্থদা, গালিব ভাইসহ অনেকে মারছে সবাইকে। রাফি নামের আরেকজনও মার খেয়েছে। পরে ৩০ ও ২৮ ব্যাচের ভাইয়েরা এসে বিষয়টি থামানোর চেষ্টা করে।"

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে ৩১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানান, সকাল ৭ টার দিকে ডিভিএম ৩১ বনাম ৩২ প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়৷ সেই ম্যাচে ডিভিএম ৩২ এর জুনিয়র, ডিভিএম ৩১ এর একজন সিনিয়র কে ঘাড়ে ঘুষি মারে পিছন থেকে, তারপর উগ্র ছেলেটি তার টিম নিয়ে মাঠ ছেড়ে উঠে যায়। ‎অত:পর জুনিয়র ছেলেটি ওর এলাকার উগ্রবাদী ছাপড়ি বন্ধুদের পিক দিয়ে পোস্ট করে, যার ক্যাপশনে ছিলো," আজকে তোরা থাকলে পুতে ফেলতি" মিস করলাম তোদের।‎এরকম আরও কিছু উগ্র জুনিয়র আজেবাজে পোস্ট করে।

তিনি আরো বলেন, ‎তারপর কিছু সময় পর, যেই উগ্র জুনিয়র যে পুতে রাখার পোস্ট করে, তার বন্ধু মেসেঞ্জারে ভয়েস পাঠায়, যা প্রাণহানির হুমকির। এই প্রমাণ আছে আমাদের। ‎তারপর এর সমাধানের জন্য, ছাত্রসমিতির সম্মিতি সাপেক্ষে, আজকে রাতে ৩১,৩২ বসা হয়। ‎সেখানে ৩২ এর সেই কিছু উগ্রবাদী জুনিয়ররা আবারও অশালীন ব্যবহার করে, যার ফলে আমাদের ব্যাচের দুয়েকজন একটু রাগারাগি করে।

‎তারপর নাহিদ, মিনহা নামক উগ্র জুনিয়র রা তেড়ে আসে, আর আমাদের কয়েকজন এর প্রতিহত করে।

‎আর ফেসবুকে দেখলাম, বুকে আচর দেয়া, পা ছিলে যাওয়া, যা পুরো ভিত্তিহীন। 

এ বিষয়ে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন আহম্মদ বলেন, “এই ব্যাপারে আমরা বসব। যে শিক্ষার্থী হাসপাতালে আছে, সে সুস্থ হয়ে এলে-আগামীকাল হলে আগামীকাল, পরশু হলে পরশু আমরা বসব।

আজকের সিলেট/এপি/প্রতিনিধি

সিলেটজুড়ে


মহানগর