সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ, কানিশাইলে প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৫ AM

সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ, কানিশাইলে প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৯/২০২৬ ০৩:০৫:২০ PM

সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে একাধিক উদ্যোগ, কানিশাইলে প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন

কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরে নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সোহেল আহমেদ


নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে সিলেটকে সুরক্ষিত করতে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী ঘিরে একাধিক উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদীর তীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে এসব কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে সুরমা নদীর ডানতীরে নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নাধীন ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’-এর আওতায় এ কাজ করা হচ্ছে।

সুরমা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো রক্ষায় পর্যায়ক্রমে প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর সংরক্ষণ করা হবে।

এর পাশাপাশি কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখতে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় মসজিদের ইমাম, স্কুলের প্রধান শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে উন্নয়নকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথা বলেন।

সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে বড় প্রকল্প গ্রহণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ তৈরি হবে এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, সিলেটের টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার, সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় জনসাধারণ ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর