রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

বকেয়া মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবিতে হবিগঞ্জে চা-শ্রমিকদের মানববন্ধন

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০১/১১/২০২৬ ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন

বকেয়া মজুরি ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের দাবিতে হবিগঞ্জে চা-শ্রমিকদের মানববন্ধন


হবিগঞ্জের চারটি চা-বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের জীবনে নেমে এসেছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। টানা তিন সপ্তাহ ধরে মজুরি না পাওয়া, বকেয়া পাওনা পরিশোধে বিলম্ব এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা না হওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে সংকটে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চিকিৎসাসেবার ঘাটতি ও আবাসনসংক্রান্ত সমস্যাও। এসব সংকট নিরসনে বারবার কর্মসূচি পালন করেও প্রতিকার না পেয়ে এবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিকরা।

রোববার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন দেউন্দি, লালচান্দ, নোয়াপাড়া ও মৃত্তিকা চা-বাগানের শ্রমিকরা। মানববন্ধন শেষে চা-শ্রমিক নেতারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন।

শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে বকেয়া মজুরি ও পাওনা পরিশোধ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ জমা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান।

জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে শ্রমিকরা জানান, বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যেক শ্রমিকের এরিয়া বা বকেয়া পাওনা হিসেবে প্রায় ৪ হাজার টাকা জমা রয়েছে। চারটি বাগানের প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের হিসাবে এই খাতে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, শ্রমিকদের মজুরি থেকে কেটে রাখা প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থের পাশাপাশি মালিকপক্ষের নির্ধারিত অংশও জমা দেওয়া হয়নি। সব মিলিয়ে ৪৭ মাসের অর্থ বকেয়া রয়েছে। এতে শ্রমিকরা তাঁদের প্রাপ্য প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

শুধু মজুরি ও সঞ্চিত অর্থ নয়, বাগানগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য নতুন বাসস্থান নির্মাণ, পুরোনো ঘরবাড়ি মেরামত, দরজা-জানালা এবং ঘরের ছাউনি সংস্কারের কাজও বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ চা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ২০২২ সাল থেকে চা-শ্রমিকরা তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া যথাযথভাবে পাচ্ছেন না। বিশেষ করে দেউন্দি টি কোম্পানির আওতাধীন চারটি বাগানে বর্তমানে টানা তিন সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেক শ্রমিকের প্রায় ৪ হাজার টাকা করে পাওনা রয়েছে এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থও কর্তৃপক্ষ নিয়মিত জমা দিচ্ছে না।

নৃপেন পাল আরও বলেন, এসব সমস্যা সমাধানের দাবিতে শ্রমিকরা প্রথমে নিজ নিজ বাগানে কর্মবিরতি পালন করেন। কিন্তু তাতেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করা হয়েছে। পরে পাঁচ দফা দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর