বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির উদযাপনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী 'হারমনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২'।
শুক্রবার উপজেলার ফুলছড়া চা-বাগানে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎসবটির উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, 'শ্রীমঙ্গল শুধু দেশের চায়ের রাজধানী নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৈচিত্র্যময় অঞ্চল। এখানে এবং এর আশপাশে প্রায় ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও জীবনধারা আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে আরও বর্ণিল ও সমৃদ্ধ করেছে।'
দেশের বৈচিত্র্যকে শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশের প্রকৃত শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর ভিন্নতা আমাদের বিভক্ত করে না; বরং আরও সমৃদ্ধ, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করে।'
উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, 'হারমনি ফেস্টিভ্যাল কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য মিলনমেলা। এবারের উৎসবে ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক অসাধারণ উপস্থাপনা।'
পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।'
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মোল্লা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামসহ প্রশাসন ও বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।
উৎসবে অংশ নেওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সঙ্গীত, হস্তশিল্প, পোশাক, খাদ্যসংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন দিকের প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। স্থানীয় বাসিন্দা, সংস্কৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উৎসব প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠেছে।
আজকের সিলেট/এপি









