হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ইকরতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া ৭৪টি ঘরের মধ্যে বর্তমানে বসবাস করছে মাত্র ২৬টি পরিবার। বাকি ঘরগুলোর অধিকাংশই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এরই মধ্যে ছয় পরিবার তাদের বরাদ্দ পাওয়া ঘর উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইকরতলী এলাকায় ২ একর ৬ শতাংশ খাস জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন ৭৪টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হয়। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এসব ঘরের সঙ্গে প্রতিটি পরিবারকে দুই শতক করে জমিও দেওয়া হয়েছে।
তবে ঘর ও জমি পাওয়ার পরও অনেক পরিবার সেখানে নিয়মিত বসবাস করছে না। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রকল্প এলাকায় কাজের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেকের পক্ষে সেখানে স্থায়ীভাবে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধার সংকট, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বাজার-হাট থেকে দূরত্বও প্রকল্পে বসবাস কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এসব কারণে কেউ কেউ আগের বসতিতে ফিরে গেছেন।
প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সরকারি উদ্যোগে ঘর ও জমি পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। প্রকল্পে থেকে আয়-রোজগার চালানো কঠিন হওয়ায় কেউ কেউ বরাদ্দের ঘর ছেড়ে দিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, ছয়জন উপকারভোগী তাদের বরাদ্দ পাওয়া ঘর ফেরত দিয়েছেন। বর্তমানে খালি থাকা ঘরগুলোতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন নতুন পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোতে উপকারভোগীদের স্থায়ীভাবে বসবাস নিশ্চিত করতে শুধু ঘর বরাদ্দ নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং পানি-বিদ্যুৎসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধাও বাড়ানো প্রয়োজন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








