আদালতের স্থগিতাদেশের পরও প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ জগন্নাথপুরে
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ PM

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ জগন্নাথপুরে

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪/০৯/২০২৬ ১০:১১:৫৫ AM

আদালতের স্থগিতাদেশের পরও প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ জগন্নাথপুরে


সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে এলজিইডির সড়কসংলগ্ন সরকারি পতিত জায়গা সীমানার ভেতরে নিয়ে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানি পৌঁছানোর নালা ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে স্থানীয় কৃষকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঘটনাটি উপজেলার ৭ নম্বর সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের আহমদাবাদ এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির সড়কের পাশে থাকা সরকারি পতিত জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। ওই জায়গা নিজেদের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।

এ নিয়ে আদালতে আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকাজের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশের পরও বিভিন্নভাবে কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা মখলিছুর হোসেনের অভিযোগ, মোস্তফা মিয়া সরকারি পতিত জায়গা সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে নিয়ে নিয়েছেন। তার দাবি, জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের মানুষ ভোগদখল করে আসছেন। এখন সেটি এককভাবে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা ইফান উল্লাহ বলেন, ওই স্থানে একটি নালা ছিল। সেটি ব্যবহার করে কৃষিজমিতে সেচের পানি নেওয়া হতো। নালাটি মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ার পর জমিতে পানি পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা লেবু মিয়া বলেন, প্রয়োজনীয় জায়গা না রেখেই এলজিইডির সড়কের পাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসী বা পঞ্চায়েতের কাউকেই জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, ট্রান্সফরমার ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত নালাসহ বিভিন্ন স্থাপনাকে সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে রেখেই নির্মাণকাজের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে গ্রামবাসী বর্তমানে ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। আদালত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও গ্রামবাসীকে মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে প্রাচীর নির্মাণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গ্রামবাসীর দাবি, সরকারি জায়গা দখল না করে মোস্তফা মিয়া তার নিজস্ব জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করুন। একই সঙ্গে কৃষিকাজে ব্যবহৃত নালাটি পুনরুদ্ধার করে কৃষকদের জমিতে সেচের পানি নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সরাসরি নির্মাণকাজ চালানো সম্ভব না হলেও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে কাজটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে তার ভাই কাঁচা মিয়া গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মোস্তফা মিয়া তার নিজস্ব জায়গাতেই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন। গ্রামবাসী তার বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান, তাই আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তারা তা মেনে নেবেন বলে জানান।

গ্রামবাসীকে মামলা-হামলার ভয় দেখানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন কাঁচা মিয়া। তার ভাষ্য, মামলা-হামলা করার বিষয়টি ভিত্তিহীন এবং এ বিষয়ে তার আর কোনো মন্তব্য নেই।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসীন উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, আদালত যেহেতু স্থগিতাদেশ দিয়েছেন, তাই নির্মাণকাজ অবশ্যই বন্ধ রাখতে হবে। এরপরও কাজ করা হলে গ্রামবাসী অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর