সুনামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হুদা মুকুট ও সদস্য সজীব রঞ্জন দাসের মালিকানাধীন সিনথিয়া সিএনজি পেট্রোল পাম্পে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন পাওনাদার দাবি করা ফয়সাল আহমদ সাকিলসহ কয়েকজন। এ ঘটনায় পাম্পের তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কয়েকজন যুবক পাম্পে গিয়ে অফিস কক্ষ ও কন্ট্রোল কক্ষসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন। পরে পাম্পের ফটকে তালা লাগানো হয়। পাম্প বন্ধ থাকায় সেখানে এসে ফিরে যেতে হয় মোটরসাইকেল, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের।
পরিবহন শ্রমিকদের কয়েকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুইদিন পর পরই পাম্পটিতে ঝামেলা হচ্ছে। শহরে মাত্র দুটি পাম্প থাকায় এর একটি বন্ধ থাকলে যানবাহন চালাতে সমস্যা হয়।
পাম্পের কর্মচারী অসীম বলেন, হঠাৎ কয়েকজন এসে পাম্পে তালা দেন এবং তেল সরবরাহ বন্ধ রাখতে বলেন। তাই তারা তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। পরবর্তী করণীয় কর্তৃপক্ষ জানেন বলেও জানান তিনি।
গ্যাস পাম্পের ইঞ্জিনিয়ার বিন্দু বলেন, তিনি বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে দেখেন অফিসে তালা দেওয়া এবং কর্মচারীরা বাইরে অবস্থান করছেন।
তালা লাগানো ব্যক্তিদের কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাদের দাবি, একাধিক মানুষের কাছ থেকে পাম্পের চেকের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।
তালা লাগানোর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যে পাম্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেন। পরে পাম্পের আলোও নিভিয়ে সবাই সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে, পাম্পের মালিক সজীব রঞ্জন দাসের এক শুভাকাঙ্ক্ষীর দাবি, পাম্পের মালিক সজীব রঞ্জন দাস এবং পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক ম্যানেজার জুয়েলের মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে। হিসাবের গরমিল নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি। এ নিয়ে বিচার-সালিশের পর মালিকপক্ষ ও ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে বিরোধ আরও বাড়ে। এর জেরেই বুধবার পাম্পে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় মালিকপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে ফয়সাল আহমদ সাকিল বলেন, পাম্পের সাবেক ম্যানেজার জুয়েল মালিকপক্ষের সজীব রঞ্জন দাসের স্বাক্ষর করা চেক দিয়ে টাকা নিয়েছেন। এখন সেই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে জুয়েলই পাম্পে তালা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, তিনি শুধু সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং আরও কয়েকজন পাওনাদার সেখানে ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) আরিফ উল্লাহ্ বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 








