আজ জাতীয় অবিবাহিত দিবস। অনেকের কাছে দিনটি আর দশটি দিনের মতোই। তবে অবিবাহিত মানুষের জীবনের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা ও নিজের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে এই দিনটি আলোচনায় আসে। ‘জাতীয় অবিবাহিত দিবস’ নামে বিভিন্ন জায়গায় দিনটি পালনের কথা প্রচলিত থাকলেও এর নির্দিষ্ট ও সর্বজনস্বীকৃত প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাস নেই। তবু অবিবাহিত জীবন নিয়ে সামাজিক ধারণা, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নিজের জীবনকে নিজের মতো করে গড়ে তোলার বিষয়টি সামনে আনার একটি উপলক্ষ হিসেবে দিনটির তাৎপর্য রয়েছে।
সামাজিক বাস্তবতায় বিয়ে অনেকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত। আবার কারও জীবনে বিয়ে দেরিতে আসতে পারে, কেউ সচেতনভাবেই অবিবাহিত থাকতে পারেন, আবার কারও ক্ষেত্রে পরিস্থিতিই হয়ে উঠতে পারে সিদ্ধান্তের কারণ। তাই অবিবাহিত থাকা মানেই নিঃসঙ্গতা কিংবা অপূর্ণতা এমন ধারণা সব মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অবিবাহিত থাকার কিছু ইতিবাচক দিক
নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা:
অবিবাহিত জীবনে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক বা দাম্পত্য দায়িত্বের চাপ তুলনামূলকভাবে কম থাকতে পারে। কোথায় থাকবেন, কীভাবে সময় কাটাবেন কিংবা কোন পথে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেবেন এসব সিদ্ধান্ত নিজের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী নেওয়ার সুযোগ থাকে।
ক্যারিয়ার ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ:
অনেকেই অবিবাহিত সময়ে শিক্ষা, ক্যারিয়ার কিংবা নতুন দক্ষতা অর্জনে বেশি সময় দিতে পারেন। নিজের পেশাগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে পরিকল্পনা করা এবং নতুন সুযোগ গ্রহণ করাও তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
আর্থিক পরিকল্পনার সুযোগ:
বিয়ের পর যৌথ সংসারের নানা দায়িত্ব যুক্ত হয়। অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিজের আয় ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। ফলে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ভ্রমণ কিংবা ভবিষ্যতের জন্য আর্থিক পরিকল্পনা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী করা সম্ভব হয়।
নিজেকে জানার সুযোগ:
জীবনের একটি বড় সময় নিজের পছন্দ, অপছন্দ, লক্ষ্য ও মূল্যবোধ বুঝতে ব্যয় করা যায়। একা সময় কাটানো, বই পড়া, ভ্রমণ, শখ চর্চা কিংবা নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে অনেকে নিজের ব্যক্তিত্ব ও আগ্রহকে আরও ভালোভাবে আবিষ্কার করেন।
নিজের জন্য সময়:
দাম্পত্য ও পারিবারিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত সময়ের পরিমাণ অনেকের ক্ষেত্রে বেশি থাকে। সেই সময়টি পরিবার, বন্ধু, শখ, শরীরচর্চা কিংবা সৃজনশীল কাজে ব্যয় করা যায়।
তবে অবিবাহিত থাকার সুবিধা সবার জীবনে একই রকম নয়। একইভাবে বিয়ের জীবনও সবার অভিজ্ঞতায় এক নয়। একজন মানুষের সুখ, মানসিক স্বস্তি ও জীবনের সাফল্য শুধু তিনি বিবাহিত না অবিবাহিত এই একটি পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না।
দিবসটির বার্তা কোথায়?
‘অবিবাহিত দিবস’কে তাই কেবল বিয়ে না করার উদ্যাপন হিসেবে দেখার চেয়ে নিজের জীবন সম্পর্কে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ব্যক্তির পছন্দকে সম্মান করার দিন হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিয়ে যেমন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, তেমনি অবিবাহিত থাকাও ব্যক্তির নিজস্ব জীবনপথের অংশ হতে পারে।
সমাজে প্রায়ই অবিবাহিত মানুষকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, কৌতূহল কিংবা চাপ তৈরি হয় ‘কবে বিয়ে করবেন?’ এমন প্রশ্ন অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। এই জায়গা থেকে ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রয়োজনীয়তাও সামনে আনে দিনটি।
শেষ পর্যন্ত জীবনকে সুখী ও অর্থবহ করে তোলার পথ সবার জন্য এক নয়। কেউ দাম্পত্য জীবনে পরিপূর্ণতা খুঁজে পান, কেউ আবার নিজের স্বাধীনতা, ক্যারিয়ার, পরিবার, বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত স্বপ্নের মধ্যেই খুঁজে নেন জীবনের আনন্দ। অবিবাহিত থাকা তাই কোনো ঘাটতির পরিচয় নয়; অনেকের জন্য এটি হতে পারে নিজের মতো করে জীবনকে সাজিয়ে নেওয়ার একটি সচেতন পছন্দ।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









