আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস: ফল থেকে অর্থনীতির বহুমুখী সঙ্গী
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ PM

আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস: ফল থেকে অর্থনীতির বহুমুখী সঙ্গী

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২/০৯/২০২৬ ০২:১০:০৫ PM

আজ বিশ্ব নারিকেল দিবস: ফল থেকে অর্থনীতির বহুমুখী সঙ্গী


ডাবের পানি থেকে শুরু করে রান্নার উপকরণ, তেল, দুধ কিংবা হস্তশিল্প—নারিকেলের ব্যবহার যেন শেষ হওয়ার নয়। গাছটির প্রায় প্রতিটি অংশই মানুষের কোনো না কোনো কাজে লাগে। পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বিশ্বজুড়েই এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলটির রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

প্রতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। নারিকেল চাষ, উৎপাদন, এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব এবং বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিই দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

নারিকেলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কও বেশ পুরোনো। ধারণা করা হয়, অন্তত দুই হাজার বছর ধরে মানুষ খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে নারিকেল ব্যবহার করে আসছে। এর আদি উৎস নিয়ে মতভেদ থাকলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে নারিকেলের ঐতিহাসিক সম্পর্ক গভীর।

সমুদ্রপথে বাণিজ্যের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে নারিকেলও ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে। প্রায় ১৬ শতকের দিকে ইউরোপে ফলটির পরিচিতি ঘটে। ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে এটি পৌঁছে যায় বিশ্বের নানা প্রান্তে।

নারিকেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণ এবং এ খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যেই ১৯৬৯ সালে গঠিত হয় এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক কোকোনাট কমিউনিটি (এপিসিসি)। নারিকেল উৎপাদন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য নিয়ে কাজ করে সংস্থাটি।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালে প্রথম পালিত হয় বিশ্ব নারিকেল দিবস। চাষিদের উৎসাহিত করা, নারিকেলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং এর বিভিন্ন ব্যবহার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো দিবসটির মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের জীবনে নারিকেল

বাংলাদেশে নারিকেলের সবচেয়ে পরিচিত ব্যবহার ডাব হিসেবে। গরমের সময়ে ডাবের পানি যেমন জনপ্রিয়, তেমনি কাঁচা নারিকেলের শাঁসও অনেকের পছন্দের। পাকা নারিকেল দিয়ে তৈরি হয় নানা ধরনের রান্না ও মিষ্টান্ন। নারিকেলের দুধ ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন খাবারে।

এ ছাড়া নারিকেলের তেল রান্না ও প্রসাধনীসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। নারিকেলের ছোবড়া ও খোলও ফেলে দেওয়ার মতো নয়। এগুলো দিয়ে দড়ি, মাদুর, জ্বালানি এবং বিভিন্ন ধরনের হস্তশিল্প তৈরি করা হয়।

পুষ্টিগুণের দিক থেকেও নারিকেল গুরুত্বপূর্ণ। এর শাঁসে চর্বি, খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। ডাবের পানিতে থাকে পানি ও কিছু ইলেকট্রোলাইট। তবে ডাবের পানি বা নারিকেলকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; স্বাস্থ্যকর খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

বিশ্ব নারিকেল দিবস উপলক্ষে এই ফলটির বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে জানা ও অন্যদের জানানো হতে পারে সচেতনতা তৈরির সহজ একটি উপায়। পাশাপাশি নারিকেল চাষিদের শ্রম ও অবদানের বিষয়টিও সামনে আনা যায়।

গ্রামবাংলার জীবনেও নারিকেল গাছের উপস্থিতি দীর্ঘদিনের। বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নারিকেলগাছ ফল দেওয়ার পাশাপাশি ছায়া, জ্বালানি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগায়।

তাই বিশ্ব নারিকেল দিবস শুধু একটি ফলকে ঘিরে উদযাপনের দিন নয়। নারিকেল চাষ, কৃষকের শ্রম এবং অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে এই বহুমুখী গাছটির অবদান স্মরণ করারও একটি উপলক্ষ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর