সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন

ইসরায়েলের নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/১০/২০২৬ ১০:২৯:৩২ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের নির্বাচনে নির্ধারিত হতে পারে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ


ইসরায়েলের জাতীয় সংসদ নেসেটের নির্বাচন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)। এ নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা-না থাকার সম্ভাবনা। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির সঙ্গে বিরোধী জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবার বেশ কাছাকাছি হতে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলের সংসদ নেসেটের মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠন করতে হলে কোনো দল বা জোটকে অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে হয়। তবে দেশটির নির্বাচনী রাজনীতিতে কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন। সর্বশেষ নির্বাচনেও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি; উগ্রপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়ে ক্ষমতায় আসে।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার প্রকাশিত নির্বাচনী জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ও প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এবার প্রায় পাঁচ লাখ তরুণ ইসরায়েলি প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৭০ হাজার ইসরায়েলি শুধু ভোট দেওয়ার জন্য দেশে ফিরছেন।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির কোনো দল এককভাবে নেসেটের ৬১টি আসন পায়নি। তাই সরকার গঠনের জন্য দলগুলোকে সাধারণত জোটের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।

এবার নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোত। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট লিকুদ পার্টির চেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেশি আসন পেলেই নেতানিয়াহুর ক্ষমতা হারানো নিশ্চিত নয়। কারণ, শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোন জোট অর্জন করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

আলজাজিরার উদ্ধৃত এক জরিপে গাদি আইজেনকোতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৫২টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর উগ্রপন্থি জোটের সম্ভাব্য আসন ৫০টি। এ পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের হিসাব বদলে দিতে পারে।

ইসরায়েলে জয়েন্ট লিস্ট ও রা’ম নামে দুটি আরব দল রয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি নাগরিক। আলজাজিরার হিসাবে, এ দুটি দল এবারের নির্বাচনে ১৩টি আসন পেতে পারে।

২০২১ সালে রা’ম সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। ইসরায়েলের ইতিহাসে সেটিই ছিল প্রথম ঘটনা, যখন কোনো আরব দল দেশটির সরকারে অংশ নিয়েছিল।

রা’মের নেতা মানসুর আব্বাস বলেছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী জোটের অতিরিক্ত আসন প্রয়োজন হলে তিনি তাদের সমর্থন দিতে প্রস্তুত। ফলে নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি জোট গঠনের আলোচনা ও ছোট দলগুলোর অবস্থানও নির্ধারণ করবে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর