শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, তবু সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০/১০/২০২৬ ১০:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, তবু সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই


ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের সব ভোট গণনা শেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকলেও পার্লামেন্ট নেসেটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন।

শুক্রবার ভোরে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি) চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে। নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যা কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পেয়েছে ২৭টি আসন। গাদি আইজেনকটের দল ইয়াশার পেয়েছে ২১টি আসন। এ ছাড়া বি'ইয়াচাদ ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি, রা'আম ৮টি, ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, ওতজমা ইয়েহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়নবাদ ৬টি আসন পেয়েছে।

অন্যদিকে, ইয়োয়াজ হেন্ডেলের রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তবে দেশটির নির্বাচনী সীমা ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ অতিক্রম করতে না পারায় দলটি কোনো আসন পায়নি। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল পার্টি পেয়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট। অতি-ধর্মীয় ইহুদিদের জন্য বিকল্প রাজনৈতিক অবস্থানের কথা বলা চারেডি পাবলিক পার্টি পেয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ ভোট। এসব দলও কোনো আসন পায়নি।

নির্বাচনের আগে বিদায়ী নেসেটে নেতানিয়াহুর জোটের আসন ছিল ৬৮টি। এবারের নির্বাচনে তা কমে ৫৩টিতে দাঁড়িয়েছে।

আরবদের নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা'আম এই দুই দল মিলে পেয়েছে ১৯টি আসন। ইসরায়েলের নির্বাচনী ইতিহাসে আরব দলগুলোর এটিই সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। আগের নেসেটে দল দুটির আসন ছিল ১০টি।

এই ১৯টি আসন বিরোধী জোটকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। তবে দ্য ডেমোক্র্যাটস ছাড়া বিরোধী জোটের অন্য জায়নবাদী দলগুলো রা'আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে সরকার গঠনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার ভোরে দেওয়া বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভোট জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ নাকচ করেছে। ভোটে প্রভাব বিস্তারে কাতারের সম্ভাব্য প্রচারণা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর এসব অভিযোগ ওঠে।

কমিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনে বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, দিনভর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের কারণে প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, এ তদন্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে না।

নেসেটে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনে আলোচনা ও দর-কষাকষি দীর্ঘায়িত হতে পারে। জোট গঠনের আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে সরকার গঠনের আলোচনা চললেও আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর