মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন

মৃত্যুর তিন মাস পর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ১১:৩২:১৮ পূর্বাহ্ন

মৃত্যুর তিন মাস পর আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট


মৃত্যু হয়েছে তিন মাস আগে। অথচ সেই ব্যক্তির নামেই আদালতে দাখিল করা হয়েছে অভিযোগপত্র। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। মৃত আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি সামনে আসার পর মামলার তদন্তের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগপত্রে নাম থাকা ওই নেতার নাম আবুল খয়ের ইসরাইল। তিনি উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের উত্তর দাওরাই গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। অথচ মৃত্যুর প্রায় তিন মাস পর, ৩১ জুলাই আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাঁকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ মামলায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ মোট ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আবুল খয়ের ইসরাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুন নূর মীরপুর বাজারে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে জগন্নাথপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ৪৯ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।

আসামিদের তালিকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম মশাহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, মীরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিকুর রহমান এবং উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালনসহ দলীয় নেতাকর্মীদের নাম রয়েছে।

মামলায় আবুল খয়ের ইসরাইল ছিলেন ৫৬ নম্বর আসামি। তাঁর মৃত্যুর তিন মাস পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিক পাল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮ ও ৪২৭ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ১৭ নভেম্বর রাতে মীরপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এক নম্বর এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মান্নানের (৮০) হুকুম ও প্ররোচনা ছিল। তদন্তে তাঁর সবুজ সংকেত ও প্ররোচনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রভুক্ত ৭৯ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ ২৫ জন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই অনিক পাল বলেন, বাদীর এজাহার, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে মৃত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। মৃত্যুসনদ পেলে বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর