মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

সিলেটের ময়লা-দূষণ ও এডিসের প্রজননস্থলের ছবি তুললেই লাখ টাকার পুরস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৪:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন

সিলেটের ময়লা-দূষণ ও এডিসের প্রজননস্থলের ছবি তুললেই লাখ টাকার পুরস্কার


নগরের কোথাও জমে থাকা ময়লা, বর্জ্যে দূষিত খাল-ছড়া কিংবা পানিতে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল এসব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেই জেতা যাবে হাজার হাজার টাকা। সেরা আলোকচিত্রের জন্য রয়েছে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার। সিলেট নগরের পরিবেশদূষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও ডেঙ্গুর ঝুঁকি নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে এমনই এক ব্যতিক্রমী আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

প্রতিযোগিতায় পেশাদার ক্যামেরার পাশাপাশি মোবাইল ফোনে তোলা ছবিও জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। দুটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য রাখা হয়েছে মোট ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে তিনটি বিশেষ বিভাগে দেওয়া হবে আরও ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার পুরস্কারের পরিমাণ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গত ২৭ অক্টোবর সিসিকের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সিলেট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির (এসপিএস) কারিগরি সহযোগিতায় প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হবে। এর মূল লক্ষ্য, নগরীর এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলে পরিবেশদূষণের বাস্তব চিত্র আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা।

আয়োজকদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিলেট মহানগরীতে বসবাস করেন এমন যেকোনো নাগরিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন। পেশাদার আলোকচিত্রীদের পাশাপাশি শৌখিন আলোকচিত্রী ও শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিচারক প্যানেলের সদস্যদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

প্রতিযোগিতার জন্য রাখা হয়েছে দুটি আলাদা বিভাগ। একটি বিভাগে ডিএসএলআর, মিররলেস কিংবা ডিজিটাল ক্যামেরায় তোলা ছবি জমা দেওয়া যাবে। অন্য বিভাগটি মোবাইল ফোনে আলোকচিত্র ধারণকারীদের জন্য। একজন প্রতিযোগী যেকোনো একটি বিভাগে অংশ নিতে পারবেন। প্রত্যেকে সর্বনিম্ন একটি এবং সর্বোচ্চ তিনটি ছবি জমা দিতে পারবেন।

ছবির বিষয়বস্তু হিসেবে নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও জমে থাকা পানিতে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল, ড্রেন বা জলাশয়ে প্লাস্টিক-পলিথিনের স্তূপ, ছড়া-খাল-নদীতে বর্জ্য ফেলার দৃশ্য কিংবা ময়লার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার চিত্র প্রতিযোগিতায় জমা দেওয়া যাবে।

তবে প্রতিযোগিতা কেবল নগরের নেতিবাচক চিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্ন নগরীর ইতিবাচক দৃশ্যও আলোকচিত্রে তুলে ধরার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নগরের সমস্যা চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেগুলো সমাধানে নেওয়া উদ্যোগ ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডও স্থান পাবে প্রতিযোগিতায়।

আলোকচিত্র ধারণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ থেকে ৩০ নভেম্বর। অন্যদিকে অনলাইনে নিবন্ধন ও ছবি জমা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে ৫ নভেম্বর থেকে। ছবি জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট।

অংশগ্রহণে আগ্রহীদের competition.scc.gov.bd ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে ছবি আপলোড করতে হবে। আলোকচিত্র রঙিন অথবা সাদাকালো দুই ধরনেরই হতে পারবে। ফাইলের ফরম্যাট হতে হবে জেপিজি বা জেপিইজি।

ক্যামেরায় ধারণ করা ছবির ফাইলের আকার ৫ থেকে ২০ মেগাবাইট এবং মোবাইল ফোনে তোলা ছবির ক্ষেত্রে ২ থেকে ২০ মেগাবাইট নির্ধারণ করা হয়েছে। ছবির মূল উচ্চ রেজল্যুশনের ফাইল সংরক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে আয়োজকেরা প্রতিযোগীর কাছে মূল ফাইল দেখতে চাইতে পারেন।

ছবিতে সাধারণ ক্রপ, উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট, এক্সপোজার ও রঙের সামান্য সংশোধন করা যাবে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ছবি, একাধিক ছবি জোড়া দিয়ে বানানো কম্পোজিট কিংবা বাস্তব দৃশ্য পরিবর্তন করা কোনো ছবি গ্রহণযোগ্য হবে না। একই সঙ্গে ছবিতে ওয়াটারমার্ক, নাম বা বর্ডার রাখা নিষিদ্ধ।

পুরস্কারের ক্ষেত্রে ক্যামেরা বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী পাবেন ৬০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীর জন্য থাকছে যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা।

মোবাইল ফটোগ্রাফি বিভাগে প্রথম পুরস্কার ৪০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার এবং তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হবে ক্রেস্ট ও সনদ।

মূল পুরস্কারের পাশাপাশি থাকছে তিনটি বিশেষ স্বীকৃতি। সেরা পরিবেশ সচেতনতামূলক আলোকচিত্র এবং সেরা ডেঙ্গু সচেতনতামূলক আলোকচিত্রের জন্য ১৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রশাসকের বিশেষ পুরস্কার হিসেবে থাকছে ২০ হাজার টাকা। এসব পুরস্কারের সঙ্গেও থাকবে ক্রেস্ট ও সনদ। তবে একজন প্রতিযোগী একাধিক মূল পুরস্কার পাবেন না।

সিসিকের গঠিত বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে ছবিগুলো মূল্যায়ন করবে। বিষয়বস্তুর সঙ্গে ছবির সামঞ্জস্য এবং সচেতনতামূলক বার্তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৫ নম্বর করে। সৃজনশীলতা ও মৌলিকত্বের জন্য ২০, আলোকচিত্রের মান ও কম্পোজিশনের জন্য ২০ এবং সামগ্রিক নান্দনিকতার জন্য রাখা হয়েছে ১০ নম্বর। প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে হলে অন্তত ৫০ নম্বর পেতে হবে।

প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত আলোকচিত্র নিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রদর্শনীর আয়োজন করবে সিসিক। ছবির স্বত্ব আলোকচিত্রীর কাছেই থাকবে। তবে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, প্রদর্শনী, প্রকাশনা, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোকচিত্রীর নাম উল্লেখ করে ছবিগুলো ব্যবহারের অধিকার থাকবে সিটি করপোরেশনের।

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিযোগিতার কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যের ছবি, ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত আলোকচিত্র, সিলেট নগরের বাইরের দৃশ্য কিংবা নির্ধারিত সময়ের আগের ছবি জমা দিলে তা বাতিল করা হবে। এ ছাড়া ছবি তুলতে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা কিংবা নিজের বা অন্যের জীবনের ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

প্রতিযোগিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া ০১৭৮৬-৮৮৬৭৪৯ নম্বরে যোগাযোগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর