সময় বদলেছে, বদলে গেছে মানুষের জীবনযাত্রা। একসময় পাট, কাঠ ও সুপারির ব্যবসায় বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া একটি পরিবারের আভিজাত্যের প্রতীক ছিল যে বাড়ি, আজ সেটিই দাঁড়িয়ে আছে অবহেলা আর ক্ষয়ের সাক্ষী হয়ে। হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের দেড় শতাব্দীরও বেশি পুরোনো দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ। পুরোনো ইট, চুন, খয়ের ও সুরকির গাঁথুনিতে নির্মিত বাড়িটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একসময়ের প্রতাপশালী পরিবারের সম্পদ ও সামাজিক অবস্থানের স্মারক বাড়িটি যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলছে তার অস্তিত্ব।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতের আসামের শিলচর থেকে পায়ে হেঁটে মোড়াকরি গ্রামে এসেছিলেন রাসবিহারী সাহার পূর্বপুরুষেরা। গ্রামে এসে তাঁরা ব্যবসা শুরু করেন। পাট, কাঠ ও সুপারির ব্যবসায় সাফল্য পাওয়ার পর লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে জমি কিনতে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে তাঁদের জমির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৪০ বিঘা। পরিবারের সেই আর্থিক সামর্থ্য ও সামাজিক প্রতিপত্তির প্রতিফলন হিসেবেই নির্মিত হয় দৃষ্টিনন্দন বাড়িটি।
বাড়িটির ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয় পুরোহিত প্রয়াত গোপেশ চক্রবর্তীর ছেলে রামপ্রসাদ চক্রবর্তী জানান, তাঁর বাবা এই পরিবারের অতীত ইতিহাস জানতেন। তাঁর কাছ থেকেই এসব তথ্য শুনেছেন তিনি। পরিবারের পাঁচ ভাই ছিলেন হরেন্দ্র রায়, ব্রজেন্দ্র রায়, দেবেন্দ্র রায়, নরেন্দ্র রায় এবং সবার ছোট রাসবিহারী সাহা। ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি তাঁরা এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমির মালিক হয়েছিলেন।
রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পরিবারের তিন ভাই কলকাতায় চলে যান। তাঁর বাবার কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, পাকিস্তান আমলে রাসবিহারী সাহা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে অন্য ভাইয়েরাও কলকাতায় চলে গেলেও রাসবিহারী সাহা নিজ বাড়িতেই থেকে যান।
তিনি আরও জানান, ১৯৭৬ সালের দিকে নিজ বাড়িতে মারা যান রাসবিহারী সাহা। তখন রামপ্রসাদ চক্রবর্তীর বয়স ছিল প্রায় আট বছর। অন্যদের সঙ্গে তিনিও শ্মশানে গিয়ে রাসবিহারী সাহার শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছিলেন। পরে রাসবিহারী সাহার সন্তানেরা তাঁদের মাকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যান।
রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, ১৯৮৪-৮৫ সালের পর থেকে বাড়িটি কে বা কারা লিজ নিয়ে ভোগদখল করছেন, সে বিষয়ে তিনি জানেন না।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
লাখাই (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








