সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘ওল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। চিকিৎসা অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে এসব অসঙ্গতি উঠে আসার পর ইউনিটটিতে নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সিলেটের সিভিল সার্জন কার্যালয়।
বুধবার বিষয়টি জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ও তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. জন্মেজয় দত্ত।
তিনি বলেন, মাউন্ট এডোরার সম্প্রতি চালু হওয়া ‘ওল উইমেন মেটারনিটি কেয়ার’ ইউনিটে প্রয়োজনীয় গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, স্থায়ী অ্যানেসথেশিওলজিস্টসহ দক্ষ জনবল নেই। এ ছাড়া জরুরি অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকাসহ তদন্তে বিভিন্ন অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব কারণে ইউনিটটি বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পর ইউনিটটি পুনরায় চালুর জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী চলতি সপ্তাহে মাউন্ট এডোরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের মেটারনিটি ইউনিট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইউনিটটি বন্ধ রেখেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে নির্দেশনা অমান্য করা হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে সন্তান প্রসবের সময় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তোলেন শিশুটির স্বজনরা।
স্বজনদের দাবি, সময়মতো প্রসূতির সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার না করে জোরপূর্বক স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা চালানোর কারণেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার দুদিন আগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের অন্তঃসত্ত্বা নাজমা বেগমকে প্রসবের জন্য মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর স্বজনরা। তিনি ওই হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক ডা. রেজওয়ানা মির্জার অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নবজাতকের স্বজনদের অভিযোগ, আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী শিশুটির ওজন সাড়ে তিন থেকে চার কেজি হওয়ায় তাঁরা শুরু থেকেই চিকিৎসকদের সিজারিয়ান ডেলিভারির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন এবং স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব বলে জানান। কিন্তু সময় গড়িয়ে গেলেও যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে কালক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্বজনদের ভাষ্য, প্রসূতির গর্ভ থেকে নবজাতকের মাথা বের হলেও শরীরের বাকি অংশ, অর্থাৎ কাঁধ আটকে যায়। এ অবস্থায় চিকিৎসকদের অপরিকল্পিত টানাটানির কারণে শিশুটির গলা, পিঠ ও মাথায় মারাত্মক জখম হয় এবং শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয় বলে তাঁদের অভিযোগ। পরে পরিস্থিতির জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে খবর দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন নাজমা বেগমের স্বজনরা। তাঁদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









