বিদায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবন ছাড়বেন সাহাবুদ্দিন
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ AM

বিদায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবন ছাড়বেন সাহাবুদ্দিন

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫/০৭/২০২৬ ০৮:১৯:০৩ AM

বিদায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বঙ্গভবন ছাড়বেন সাহাবুদ্দিন


রাষ্ট্রপতির পদটি সাংবিধানিক মর্যাদাপূর্ণ। বিদায় বেলাও মর্যাদাপূর্ণ এই পদটির সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে চায় বিএনপি সরকার। সরকার সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে বঙ্গভবনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে বিদায় সংবর্ধনা দিতে চায়। সে অনুযায়ী সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরবর্তী কর্মদিবস রোববার তার বঙ্গভবন ছাড়ার কথা রয়েছে।

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য গার্ড অব অনারের মতো আয়োজন থাকবে বলে বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। শনিবার বা রোববার এসব আয়োজন হতে পারে।

শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া হয়। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ গ্রহণ করেন স্পিকার।পদত্যাগের আগ থেকে সম্মানজনক বিদায়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আসছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদটি রাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই পদত্যাগের পর বিদায়ী রাষ্ট্রপতির সম্মানজনক প্রস্থান নিশ্চিত করতে নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে বঙ্গভবন ত্যাগের আগে প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে এবং বিদায়ের সময় তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে।

বঙ্গভবনের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে সম্মান জানানোর বিষয়টি কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না, বরং এটিকে একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দায়িত্ব গ্রহণের মতো দায়িত্ব ছাড়ার ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদধারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন গণতান্ত্রিক চর্চা ও রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রটোকল অনুযায়ী বিদায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হলেও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিদায়ী রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হবে। বঙ্গভবন ত্যাগের পর তিনি আরও ছয় মাস স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। এই সময়কালে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এসএসএফের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

রাষ্ট্রপতির পরিবারের একজন সদস্য জানিয়েছেন, রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে উঠবেন মো. সাহাবুদ্দিন। বঙ্গভবন ছাড়ার আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে তাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদায় ও পরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রথা রয়েছে। বাংলাদেশেও রাষ্ট্রপতির বিদায়কে আরও মর্যাদাপূর্ণ, সুশৃঙ্খল এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। এতে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল আরও সুসংহত হবে এবং সাংবিধানিক পদগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত প্রটোকল বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব হস্তান্তর, বিদায় সংবর্ধনা, গার্ড অব অনার এবং নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ই রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান ও প্রচলিত প্রটোকল অনুসারে সম্পন্ন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির দায়িত্ব গ্রহণ ও দায়িত্ব ছাড়ার প্রতিটি ধাপই রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার প্রতীক। তাই বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য সম্মানজনক বিদায় অনুষ্ঠান চালু হলে তা ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, রাষ্ট্রপতির বিদায়কে ঘিরে এ ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হবে এবং বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে নতুন একটি ইতিবাচক নজির হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এর মধ্যে সরকার সংশ্লিষ্টদের কণ্ঠে বিদায়ী রাষ্ট্রপতির প্রতি সহনশীল মনোভাব পোষণের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়।

সংসদ ভবন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় বিদায়ী রাষ্ট্রপতির জন্য সম্মান প্রদর্শনমূলক বক্তব্য দেন সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, আমার মনে হয় তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তার প্রতি তিনি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও প্রশংসা করেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতির। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা এটিকে (রাষ্ট্রপতি পদ) একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি। আমরা দেখেছি তিনি যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি যেহেতু স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাই সেই সময়কার কিছু সমালোচনা ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সংকটের সময়ে রাষ্ট্রকে সাংবিধানিক পথে রাখার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর