চা প্রকৃতিতে এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কাশফুল
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫ AM

চা প্রকৃতিতে এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কাশফুল

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭/০৯/২০২৬ ১০:০৪:৫৭ AM

চা প্রকৃতিতে এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কাশফুল


পাশেই সুবিস্তৃত চা বাগান। তার পাশ দিয়ে নীরবে বয়ে গেছে পাহাড়ি ছড়া। এই ছড়ার দু’পাশের বালুময় স্থানে ফুটেছে শরৎরানীর আপন সৌন্দর্য। শরতের আগমনে যেন নতুন রূপে সেজেছে চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, সবুজ চা-বাগান আর বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল- সব মিলিয়ে প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী এলাকায় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন ভুরভুরিয়া ছড়ার দুই পাড়জুড়ে ফুটেছে দিগন্তজোড়া কাশফুল। প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সাদা কাশফুলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এখন পরিণত হয়েছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভানুগাছ সড়কের বেলতলী সংলগ্ন বিশাল কাশবন বাতাসে দুলছে। কোথাও সবুজ চা-বাগানের ফাঁকে শুভ্র কাশফুল, কোথাও ছড়ার পাড়জুড়ে সাদা ফুলের সমারোহ। নীল আকাশ আর সাদা মেঘের সঙ্গে কাশফুলের এই মেলবন্ধন তৈরি করেছে মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক দৃশ্য। প্রতিবছর আগস্টের শেষের দিক থেকে ফুটতে শুরু করে কাশফুল থাকে অক্টোবরের প্রথম দিক পর্যন্ত। তাই বছরের দুই মাস এখানে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।

চা বাগানের উপত্যাকাজুড়ে বিস্তৃত কাশবনে গিয়ে দেখা যায়, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে এসেছেন অনেকেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দলবেঁধে ঘুরছেন। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ কাশফুলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। আবার কেউ সড়কের পাশে গাড়ি থামিয়ে কিছুক্ষণ উপভোগ করছেন শরতের নির্মল এই সৌন্দর্য।

দৈনন্দিন জীবনের কর্মব্যস্ততা থেকে ছুটি নিয়ে উপজেলাবাসীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ বেড়াতে আসেন। শরতের ঝকঝকে আকাশের নিচে হাওয়ায় দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুলের বালুচর আগন্তুকদের বিনোদনের এক অন্যতম মাধ্যম। যারা কর্মব্যস্ত শহরে খুঁজে বেড়ান একটু নীরবতা, তারা প্রিয়জনকে নিয়ে কাশফুলের বালুচরে ঘুরে আসতে পারেন।

ঢাকা থেকে আসা নুসরাত বলেন, বাংলার প্রকৃতিতে এখন শরৎকাল। এ সময় রাশি রাশি কাশফুল তার অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ায়। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতেই ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলে।

ভুরভুরিয়া ছড়ার পাড় ঘেঁষে বিশাল এলাকাজুড়ে প্রস্ফুটিত সাদা কাশফুল প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বাতাসে দোল খাওয়া কাশফুলের দৃশ্য শ্রীমঙ্গলের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় ট্যুর গাইড শ্যামল দেব বর্মা বলেন, দিগন্তজোড়া কাশফুলের মনোরম দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করে। শরৎ ঋতুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য কাশফুল এখন শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণেও বড় ভূমিকা রাখছে।

শহরের ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, শ্রীমঙ্গলের এই কাশবন প্রতি বছর প্রায় দুই মাস স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শরতের ঝকঝকে আকাশের নিচে বাতাসে দোল খাওয়া শুভ্র কাশফুল দেখতে নানা বয়সী মানুষ এখানে ছুটে আসেন।

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, কাশফুল এক ধরনের বহুবর্ষজীবী ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ। এটি সাধারণত প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। নদী, ছড়া কিংবা জলাশয়ের তীরে ফুটে থাকা কাশফুল প্রকৃতিতে এনে দেয় এক অনন্য সৌন্দর্য।

স্থানীয়রা জানান, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে শুরু হয়ে সেপ্টেম্বরজুড়ে এ অঞ্চলে কাশফুলের সৌন্দর্য দেখা যায়। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড়ও থাকে বেশি।

প্রাকৃতিক এই কাশবন রক্ষায় দর্শনার্থীদের কাশফুল না ছেঁড়া, ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং পরিবেশের ক্ষতি হয়-এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা।

তাদের প্রত্যাশা, দর্শনার্থীদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণে শ্রীমঙ্গলের এই প্রাকৃতিক কাশবন দীর্ঘদিন টিকে থাকবে। শরতের শুভ্রতায় প্রতি বছরই প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের মুগ্ধ করবে চায়ের রাজ্য শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য কাশবন।   

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর