ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দুর্ঘটনাপ্রবণ বাহুবলে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত ট্রমা সেন্টারটি এক যুগের বেশি সময়েও চালু করা সম্ভব হয়নি। ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি।
২০১৩ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে বাহুবল অর্থোপেডিক্স হাসপাতাল ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শেষ করে গণপূর্ত বিভাগ। তবে ভবন নির্মাণের পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের ব্যবস্থাও হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় এক দশক পর ২০২৩ সালের ৮ জুন গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সেখানে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু ট্রমা সেন্টারের জন্য কোনো পদ অনুমোদিত না থাকায় চিকিৎসক, নার্স বা টেকনিশিয়ান পদায়নের সুযোগ তৈরি হয়নি।
এদিকে প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় এক্স-রে মেশিন, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামও সরবরাহ করা হয়নি। ফলে ভবন থাকলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা যায়নি। বর্তমানে ওই ভবনের নির্ধারিত অংশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য বিভাগের কার্যক্রম চলছে। সরেজমিনে ট্রমা সেন্টারের কয়েকটি কক্ষ আনসারদের অস্থায়ী ক্যাম্প হিসেবেও ব্যবহৃত হতে দেখা গেছে। গত জুন মাসে অবশ্য ১৫ দিনের জন্য সাময়িকভাবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থেকে নবীগঞ্জের আউশকান্দি পর্যন্ত অংশে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের জন্য কাছাকাছি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার না থাকায় তাদের অনেক সময় ঢাকায় পাঠাতে হয়। এতে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। দুর্ঘটনায় আহত অনেকেই স্থায়ী পঙ্গুত্বের শিকার হন বলেও জানান স্থানীয়রা
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্লাহেল মারুফ ফারুকী বলেন, ট্রমা সেন্টারের ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল পদায়ন না হওয়া এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম না পাওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








