বিনিয়োগ টানতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার তাগিদ
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ PM

বিনিয়োগ টানতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার তাগিদ

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৯/২০২৬ ০৬:২৫:২৬ PM

বিনিয়োগ টানতে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার তাগিদ


বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয় এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ জন্য নীতির স্থিতিশীলতা, সরবরাহ ব্যয় কমানো, কাস্টমস ব্যবস্থার অটোমেশন এবং ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হংকংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ সহজেই যাচাই করতে পারেন। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িক পরিবেশ, নীতি ও সক্ষমতার তুলনীয় মান তৈরি করতে হবে।

২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা ধরে রাখার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও প্রায় ১৩টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শিগগির শুরু হবে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর আশা, এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই এ বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ। তবে তা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বর্তমান বাজারসুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধাগুলোর একটি হিসেবে সরবরাহ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশে সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। পরিবহন, উৎপাদন এবং আমদানি-রফতানি খরচ কমিয়ে এই ব্যবধান কমাতে হবে।

বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও সেমিনারে কথা বলেন তিনি। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক অপারেটরদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পণ্য পরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ব্যয় কমবে।

ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া সহজ করার ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঋণপত্র খোলার পর্যায়ে যেতে কয়েকশ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল করার কাজ চলছে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ১৪ দিনের মধ্যে ঋণপত্র খোলার পর্যায়ে যেতে পারবে।

ট্রেড লাইসেন্স, শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর ফলে উদ্যোক্তাদের সরকারি দপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে আসবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কারের প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, অটোমেশনের মাধ্যমে আমদানিকারকদের পণ্য খালাসে সময় ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিদর্শন কমিয়ে ঝুঁকিভিত্তিক কাস্টমস ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে কাস্টমসের অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও প্রক্রিয়া অনেকটাই শিথিল হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে নীতির ধারাবাহিকতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিনিয়োগ একটি দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত। কোনো নীতি প্রণয়নের পর অল্প সময়ের মধ্যে সেটি পরিবর্তন করা হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

নীতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে তা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কার্যকর করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এতে বিনিয়োগকারীরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পুরো পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

সেমিনারে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের কথাও তুলে ধরেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বাংলাদেশ ও ভারত করে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে এই খাতে আরও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর