সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কলহের জেরে তামান্না আক্তার জলি (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের কাঠালখাই (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত তামান্না আক্তার জলি কাঠালখাই গ্রামের আব্দুল মজিদের মেয়ে। সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জগন্নাথপুর উপজেলার আলমপুর গ্রামের আনোয়ার আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মারুফ আহমেদের সঙ্গে জলির বিয়ে হয়। তাঁদের ১৩ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বিয়ের কিছুদিন পর মারুফ সৌদি আরবে চলে যান। এরপর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মুঠোফোনে প্রায়ই মনোমালিন্য ও ঝগড়া হতো। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমঝোতার চেষ্টাও করা হয়েছিল।
সম্প্রতি আবারও তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে ছয় দিন আগে জলি বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার দিনভরও স্বামীর সঙ্গে তাঁর মুঠোফোনে কথা কাটাকাটি হয়।
জলির বাবা আব্দুল মজিদ জানান, রাত ১১টার দিকে শোয়ার ঘরের তীরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে জলি আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শিশুসন্তানের কান্নার শব্দ শুনে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে পার্শ্ববর্তী গোয়ালাবাজারের এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই গৃহবধূর সঙ্গে তাঁর প্রবাসী স্বামীর পারিবারিক বিরোধ ছিল।
তিনি জানান, সোমবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








