আফগানিস্তানে আবারও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ PM

আফগানিস্তানে আবারও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/০৯/২০২৫ ১০:৪৪:৪৩ AM

আফগানিস্তানে আবারও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প, মৃতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা


দুই দিনের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আফগানিস্তান। গতকাল মঙ্গলবার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে রোববার রাতের ৬ মাত্রার শক্তিশালী কম্পনে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৪০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, ধসে পড়েছে হাজারো ঘরবাড়ি। নতুন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ১০ কিলোমিটার গভীরে, যা আগেরটির কাছাকাছিই। পরবর্তী কম্পনে পাহাড় ধসে পড়ায় বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়, উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয় এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের বের করে আনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

মানবিক সহায়তা সংস্থা আসিলের কর্মী সাফিউল্লাহ নূরজাই বলেন, “ভূমিকম্পে নতুন করে আরও অনেকে আহত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।”

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, প্রায় প্রতিটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয়রা ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বহু ঘর মঙ্গলবারের ভূমিকম্পে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪১১ জন নিহত, ৩ হাজার ১২৪ জন আহত এবং ৫ হাজার ৪০০-র বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের সমন্বয়কও সতর্ক করেছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

আন্তর্জাতিক শিশু সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জরুরি তহবিল ছাড়ের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রোগ্রাম ও অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর সামিরা সাঈদ রহমান বলেন, “এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জীবন রক্ষার লড়াই চলছে। দূরবর্তী গ্রামগুলো থেকে আহতদের বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয় পৌঁছে দেয়া জরুরি।”

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও নানগারহার প্রদেশ। দুর্গম এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি হেলিকপ্টার পাঠানো হচ্ছে আহতদের উদ্ধারে ও ত্রাণ সরবরাহে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, হাজার হাজার শিশু ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্থাটি ওষুধ, গরম কাপড়, তাঁবু, টারপলিন, স্যানিটারি সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানির সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে।

তালেবান সেনারাও উদ্ধারকাজ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে। তবে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সীমিত অবকাঠামো আফগানিস্তানকে আরও বড় চাপে ফেলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আসিলের নূরজাই জানান, ঘরবাড়ি ধসে পড়ায় অসংখ্য মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। নিয়মিত আফটারশকের আতঙ্ক তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য তাৎক্ষণিক আন্তর্জাতিক সহায়তা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর