প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপলীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছেআকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদেরদারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। তবে প্রাকৃতি রক্ষায় জাফলং-ডাউকি নদীতে বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত এই পরিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য রক্ষায় একাধিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট গণমাধ্যম জানায়, জাফলং-ডাউকি নদী সরকার ঘোষিত একটি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা। এ এলাকায় পয়ঃপ্রণালী, কঠিন ও তরল বর্জ্য নিক্ষেপ বা অপসারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া যান্ত্রিক, ম্যানুয়াল কিংবা অন্য যেকোনো পদ্ধতিতে পাথরসহ সব ধরনের খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা যাবে না। স্টোন ক্রাশিং ও চুনাপাথর ক্রাশিং, অপরিকল্পিতভাবে কয়লা মজুদ বা পরিবহন, সব ধরনের যানবাহন চলাচল এবং যান্ত্রিক ডিভাইস, ক্রেন কিংবা ড্রেজার ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও স্থলজ ও জলজ পরিবেশে বসবাসরত বন্য প্রাণী ও পরিযায়ী পাখি ধরা বা শিকার, নদী ও জলাশয়ের মাছ ধরা বা শিকার, প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, ভূমি ও পানির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট বা পরিবর্তন করতে পারে- এমন সব ধরনের কাজ, মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কর্মকাণ্ডও এই এলাকায় নিষিদ্ধ থাকবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় জানায়, পরিবেশগত সংকটাপন্ন এ এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









