সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন চন্দ্র দে-র বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাকে নিয়মিত না পাওয়ায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার খামারিরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রায়ই কার্যালয়ে থাকেন না। সরেজমিনে গত মঙ্গলবার, বুধবার, বৃহস্পতিবার ও রোববার—টানা চার দিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গিয়ে তার কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।
কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে কার্যালয়ের ড্রেসার হরেকৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘শাক দিয়ে তো মাছ ঢাকা যায় না। আপনিতো এই এলাকারই বাসিন্দা, সবকিছু দেখেন। উনি কোথায় যান আমি বলতে পারি না, মাঝে মধ্যে বলেন মিটিংয়ে যাচ্ছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া, আব্দুল মুহিত ও দিলু মিয়া অভিযোগ করেন, হাসপাতালে চিকিৎসক ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। একই সঙ্গে কর্মকর্তাকেও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে তারা সমস্যায় পড়েছেন।
সেবা নিতে আসা কাওসার খান বলেন, ‘গরুর ঔষধ ও পরামর্শের জন্য প্রায়ই আসি, কিন্তু কর্মকর্তার দেখা পাই না।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে মিঠুন চন্দ্র দে বলেন, ‘আমি কখন অফিসে থাকি আর না থাকি, সেটা আপনার জানার বিষয় না। আমি দিরাই ও শাল্লা দুই উপজেলার দায়িত্বে আছি, মিটিংয়ের জন্য বাইরে থাকতে হয়।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জীব সরকার বলেন, কর্মকর্তার অনুপস্থিতির বিষয়টি তার জানা নেই। ছুটির বিষয়ে জেলা কার্যালয় তথ্য দিতে পারবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান মিয়া বলেন, ‘তিনি গতকাল ছুটিতে ছিলেন, এর আগে ছুটি নেননি, বুধবার সুনামগঞ্জে মিটিংয়ে ছিলেন। নিয়মিত অফিসে না যাওয়ার বিষয়টি প্রথম শুনলাম, আমি তার সাথে কথা বলব।’
আজকের সিলেট/ জেকেএস
আশরাফ উদ্দিন, দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 








