শিশুর মৃত্যু ঘিরে ধর্মপাশা হাসপাতালে চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, ভাঙচুর
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪২ PM

শিশুর মৃত্যু ঘিরে ধর্মপাশা হাসপাতালে চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, ভাঙচুর

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৯/২০২৬ ১১:০৩:০১ AM

শিশুর মৃত্যু ঘিরে ধর্মপাশা হাসপাতালে চিকিৎসককে লাঞ্ছিতের অভিযোগ, ভাঙচুর


সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শুভেন্দু শেখর দাসকে লাঞ্ছিত এবং জরুরি বিভাগে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ভাঙচুরে জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও একটি নেবুলাইজার মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে ধর্মপাশা থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম সিয়াম। সে উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের রাব্বী মিয়া (৩৪) ও স্মৃতি মনি (২৮) দম্পতির সন্তান।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিভিয়ার নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সিয়ামকে গত বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছিল।

রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে বাবা-মা তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাবের ফুয়াদ শিশুটিকে পরীক্ষা করেন। পরে খবর পেয়ে আরএমও ডা. শুভেন্দু শেখর দাসও জরুরি বিভাগে যান। দুই চিকিৎসক মিলে শিশুটিকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। এর কিছুক্ষণ পর বিকেল ৫টার দিকে জরুরি বিভাগেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এরপর শিশুটির মৃত্যুর খবর জানানো হলে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত ও জরুরি বিভাগে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। হাসপাতাল সূত্রের অভিযোগ, তারা আরএমও ডা. শুভেন্দু শেখর দাসের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন। একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও সেখানে থাকা একটি নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুর করা হয়।

পরে হাসপাতালের স্টাফরা চিকিৎসককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।

শিশুটির দাদি ফিরোজা আক্তার (৬০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন। আমার ছেলে ও ছেলের বউ মিলে ডাক্তারের শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।’

আরএমও ডা. শুভেন্দু শেখর দাস বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরই তার বাবা-মা আমার শার্টের কলার ধরে আমাকে লাঞ্ছিত করেন। জরুরি বিভাগের স্টাফরা আমাকে রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ায় আমি প্রাণে রক্ষা পেয়েছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবীর সরকার বলেন, ‘শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করা, জরুরি বিভাগের জানালার কাঁচ ও নেবুলাইজার মেশিন ভাঙচুরের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, ইউএনও এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।’

ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর