প্রতিদিন একই নাস্তা খেলে সমস্যা? যা বলছে গবেষণা
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ PM

প্রতিদিন একই নাস্তা খেলে সমস্যা? যা বলছে গবেষণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১/০৯/২০২৬ ০৯:৪১:১৮ AM

প্রতিদিন একই নাস্তা খেলে সমস্যা? যা বলছে গবেষণা


প্রতিদিন সকালে কী নাস্তা করবেন, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় অনেকেরই থাকে না। ব্যস্ততার কারণে একই খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসও তৈরি হয়। তবে প্রতিদিন একই নাস্তা খাওয়াটা নিজে থেকে ক্ষতিকর নয়। বরং সেই খাবারে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি যথেষ্ট পরিমাণে থাকলে নিয়মিত একই নাস্তা করেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

একই ধরনের সকালের খাবার বেছে নেওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে প্রতিদিনের খাবারের পরিকল্পনা সহজ হয়। সময়ও বাঁচে এবং কতটা খাবার খাচ্ছেন, সেটিও নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হয়। তবে সমস্যা তৈরি হতে পারে খাবারটির পুষ্টিমান কম হলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন একই খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগও কমে যায়। বিশেষ করে সকালের খাবারে যদি পরিশোধিত বা কম মানের কার্বোহাইড্রেট ও অতিরিক্ত চিনি বেশি থাকে, অথচ প্রোটিন ও ফাইবারের পরিমাণ কম থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা ভালো অভ্যাস নাও হতে পারে।

এ কারণে প্রতিদিন আলাদা নাস্তা তৈরির প্রয়োজন নেই। বরং একটি স্বাস্থ্যকর কাঠামো ঠিক করে সেই কাঠামোর মধ্যে উপাদানগুলো পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেমন, গোটা শস্যের সঙ্গে ডিম, পনির, দই, টোফু বা ডালের মতো প্রোটিনের উৎস রাখা যেতে পারে। এর সঙ্গে ফল বা সবজি এবং বাদাম কিংবা বীজ যোগ করা যায়।

সপ্তাহজুড়ে ফল, শস্য ও প্রোটিনের উৎসে কিছুটা পরিবর্তন আনলেই খাবারে বৈচিত্র্য তৈরি করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রতিদিন সকালের নাস্তা বদলানোর চেয়ে পুরো খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য ও বৈচিত্র্য রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালে ‘দ্য জার্নাল অফ নিউট্রিশন, হেলথ অ্যান্ড এজিং’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও সকালের খাবারের গুণমান ও পরিমাণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, পুষ্টিকর নাস্তা হৃদ্‌যন্ত্রের সুরক্ষা এবং শরীরের বিপাকীয় প্রক্রিয়া সচল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।

গবেষণার ফল অনুযায়ী, প্রতিদিনের মোট ক্যালরির ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সকালে গ্রহণ করলে শরীরে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এই মাত্রায় সকালের খাবার গ্রহণকারীদের হৃদ্‌পিণ্ড ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের অবস্থা খুব কম বা অতিরিক্ত নাস্তা করা ব্যক্তিদের তুলনায় ভালো ছিল বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সকালে অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার গ্রহণের সঙ্গেও কিছু নেতিবাচক দিকের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, বেশি নাস্তা করা ব্যক্তিদের শরীরে চর্বির পরিমাণ বেশি ছিল এবং বিপাকীয় চাপ তৈরির সম্ভাবনাও ছিল।

এ ছাড়া নিম্নমানের সকালের খাবার নিয়মিত খাওয়ার সঙ্গে সময়ের সঙ্গে কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্পর্কও গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটি আরও বলছে, স্বাস্থ্যকর সকালের খাবার শরীরের স্বাভাবিক দৈনন্দিন ছন্দের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। তাই সকালে শুধু পেট ভরানোই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়; খাবারে কী ধরনের পুষ্টি রয়েছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সুষম ও পরিমিত সকালের নাস্তা দিনের বাকি সময়ের খাদ্যাভ্যাসের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে প্রতিদিন নতুন কোনো পদ তৈরি করা জরুরি না হলেও, একই নাস্তা খেলে সেটি যেন পুষ্টিকর হয় এবং সময়ের সঙ্গে খাদ্যতালিকায় প্রয়োজনীয় বৈচিত্র্য থাকে—সেদিকে নজর দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর