বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

ধর্মপাশায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে ১০২ শিক্ষার্থী

ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন

ধর্মপাশায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে ১০২ শিক্ষার্থী


শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান, অথচ মাথার ওপর ছাদ আর বিম থেকে কখন পলেস্তারা খসে পড়বে, সেই শঙ্কা নিয়েই বসে থাকতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। কয়েক দিন আগে ক্লাস শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে একটি কক্ষের বিমের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে। সৌভাগ্যক্রমে তখন শিক্ষার্থীরা কক্ষের বাইরে থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এরপরও বন্ধ হয়নি পাঠদান। ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভবনেই প্রতিদিন ক্লাস করছে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার আবুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০২ শিক্ষার্থী ও ছয় শিক্ষক।

উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টির ভবন দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বিশেষ করে বিমগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। আবার কখনো ছাদ ও দেয়াল থেকে খসে পড়ে কংক্রিটের গুঁড়া ও পলেস্তারা। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরাও।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭২ সালে আবুয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে ভবনটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির বর্তমান অবস্থা জরাজীর্ণ।

ভবনের এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সায়েম মিয়া জানায়, ক্লাস চলার সময় মাঝেমধ্যে হঠাৎ পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে তারা ভয় পেয়ে যায়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুইটি আক্তারের কথায়ও সেই আতঙ্কের প্রতিফলন। সে বলে, ‘আমরা সব সময় ভয়ে থাকি, কখন পলেস্তারা খসে মাথায় পড়ে।’

শিক্ষার্থীদের এই ভয়ের কথা জানিয়েছেন শিক্ষকেরাও। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মালবিকা সরকার বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের বিমের অবস্থা খারাপ। মাঝেমধ্যে বিম থেকে পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গায়ে পড়ে। এতে শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সহকারী শিক্ষক তাসলিমা আক্তার জানান, বর্ষাকালে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। কখনো ছাদ থেকে কংক্রিটের গুঁড়া ও পলেস্তারা খসে পড়ে। ছাদ কখন ধসে পড়ে, সেই আশঙ্কা নিয়েই তাঁদের পাঠদান করতে হয়। ফলে নিশ্চিন্তে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সহকারী শিক্ষক সাথী সরকার ও সেলিনা আক্তার বলেন, প্রাক্‌-প্রাথমিকের ক্লাস চলার সময় ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়লে ছোট শিশুরা ভীষণ ভয় পায়। এমন পরিস্থিতিতে তাদের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।

আরেক সহকারী শিক্ষক নিরুপমা তালুকদার বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ে আমরা নিরাপদ নই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজমুল হক খোকন জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কয়েক দিন আগে ক্লাস শুরুর কিছুক্ষণ আগে একটি শ্রেণিকক্ষের বিমের অংশবিশেষ ধসে পড়ে। সে সময় শিক্ষার্থীরা কক্ষের বাইরে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীন মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সেখানে টিনশেড ঘর নির্মাণ করে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেখানে নিরাপদ পরিবেশে পাঠ নেওয়ার কথা, সেখানে ছাদ ও বিম ধসের আশঙ্কা নিয়েই দিন কাটছে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের। কয়েক দিন আগে বিমের অংশবিশেষ ধসে পড়ার ঘটনাও সেই ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। এখন দ্রুত বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা এবং নতুন ভবন নির্মাণের অপেক্ষায় বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর