বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

সিলেটে ১৫ কার্যদিবসে ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন দিচ্ছে সিউক

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩/১১/২০২৬ ০৮:৪৩:৩৯ অপরাহ্ন

সিলেটে ১৫ কার্যদিবসে ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন দিচ্ছে সিউক


পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে সিলেটকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নগর উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর প্রথমবারের মতো মাত্র ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র এবং পেশাজীবী ও প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সংস্থাটি। এর মধ্য দিয়ে সিলেটে ভূমির ব্যবহার, ভবন নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম দৃশ্যমান রূপ পেল।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় নগরের নাইওরপুলে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবন মালিক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুমোদনপত্র এবং নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সনদ বিতরণ করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

অনুষ্ঠানে তিনজন ভবন মালিককে ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র, নয়জনকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, পাঁচজন স্থপতিকে নিবন্ধন সনদ এবং ছয়জন প্রকৌশলীকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছয়টি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি কারিগরি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের সনদ প্রদান করা হয়।

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ৩১৫ জন পেশাজীবী, সংস্থা, স্থপতি ও প্রকৌশলীর সনদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ভবন মালিকদের হাতে অনুমোদিত নকশাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই মাসে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সিউকের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। নির্বাহী পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সিউক চেয়ারম্যান মনে করেন, নগর পরিকল্পনায় শুধু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণে অনুমোদিত নকশার সঙ্গে নির্মাণকাজের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবন মালিকদের পাশাপাশি নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুতেই আইন প্রয়োগ না করে প্রথমে মানুষকে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে চায় সিউক। নির্দিষ্ট সময় পর প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবন মালিক, শহর ও দেশের স্বার্থেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিলেটকে পরিকল্পিত নগরায়ণের আওতায় এনে নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে সিউকের সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যদিও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আরও দুই মাস আগে, তবে এদিন থেকেই সেবাগ্রহীতাদের হাতে অনুমোদন ও নিবন্ধন সনদ হস্তান্তরের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হলো।

তিনি জানান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করায় ভবিষ্যতে আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আবেদন নিষ্পত্তি করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমানে যেসব আবেদন জমা পড়ছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে সিউক। পাশাপাশি সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সিউকের নতুন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা। নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্তাবলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু ভবন মালিক নন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি এবং নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীদেরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হচ্ছে।

নিবন্ধনের শর্তে নির্মাণকাজের সুপারভিশন বা তদারকির বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। নির্মাণকাজ শুরুর আগে ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অর্থাৎ, শুধু নকশা তৈরি করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ থাকছে না; নির্মাণকাজে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা ও তদারকিও নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও কঠোর অবস্থানে থাকবে সিউক। নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংস্থাটি।

সিউক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার পর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বিএনবিসি-২০২০ অনুসারে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সংস্থাটিতে কর্মরত অথরাইজড অফিসার, সহকারী স্থপতি, উপসহকারী প্রকৌশলী, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব পরিদর্শনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাই করার পাশাপাশি নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণ কমিটির (বিসি কমিটি) মাধ্যমে নকশা অনুমোদনের পরও তদারকি কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। শুধু তা-ই নয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন ব্যবহারের আগে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ প্রদানও নিশ্চিত করা হবে। তাঁর ভাষ্য, ভূমির ব্যবহার থেকে শুরু করে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমতি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন সনদ হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের ভাষ্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন। এ জন্য সংস্থাটির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হওয়ার ফলে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন আইনগত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্য কোনো সংস্থা থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তা আইন অনুযায়ী অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় সিলেটে ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সিউকের অনুমোদন এবং নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর