বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩০ অপরাহ্ন

দুর্গাপূজায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সিদ্ধান্ত বিএনপির

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪/১০/২০২৬ ০৯:৩২:২২ পূর্বাহ্ন

দুর্গাপূজায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠনের সিদ্ধান্ত বিএনপির


আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন এবং প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। পূজার সময় নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রথম সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন এমপি। সঞ্চালনা করেন কমিটির সদস্যসচিব ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।

সভায় বক্তারা বলেন, বিএনপি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ নীতিতে বিশ্বাসী। ধর্মীয় স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা দলের অঙ্গীকার। ঈদ, দুর্গাপূজা, বড়দিন ও বুদ্ধপূর্ণিমাসহ সব ধর্মের উৎসব বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তাঁরা।

সভায় জানানো হয়, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের সব জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকেরা নিজ নিজ এলাকায় কার্যক্রম সমন্বয় করছেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হবে। এসব কমিটিতে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে পৃথক স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে। এসব দলের সদস্যরা শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ভূমিকা রাখবেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করবেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা।

সভায় বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ সময় জানানো হয়, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গোৎসব উপলক্ষে সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানো হয়েছে।

সভা শেষে খায়রুল কবির খোকন ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মিশন পরিদর্শন করে। মিশনের অম্বেশানন্দ মহারাজ প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। এ সময় তাঁরা মিশনের সার্বিক প্রস্তুতি ও পূজার আয়োজন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এদিকে দুর্গাপূজা পর্যবেক্ষণ কমিটিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের সদস্য মিল্টন বৈদ্যর পরিবর্তে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, প্রান্তিক জনশক্তি উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায় দাস, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু ও জন গোমেজ, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, রমেশ দত্ত ও দেবাশীষ রায় মধু, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পার্থ দেব মণ্ডল, ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জয়দেব রায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসসহ কমিটির অন্যান্য নেতারা।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর