বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

রাতে কুকুরের কান্না কি অশুভ সংকেত, কী বলছে বিজ্ঞান?

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/১১/২০২৬ ১১:১৪:৪৭ পূর্বাহ্ন

রাতে কুকুরের কান্না কি অশুভ সংকেত, কী বলছে বিজ্ঞান?


রাত যত গভীর হয়, পাড়ার নীরবতা ভেঙে ততই শোনা যায় রাস্তার কুকুরের দীর্ঘ আর্তনাদ। এমন দৃশ্য অনেকের মনেই অজানা আশঙ্কা তৈরি করে। প্রচলিত কুসংস্কারে রাতের বেলা কুকুরের কান্নাকে অশুভ ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাঁদের মতে, কুকুরের এই ডাক কোনো অশুভ সংকেত নয়; বরং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ, বিপদের সতর্কবার্তা কিংবা শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রকাশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে রাস্তার কুকুরের ডাকাডাকি মূলত নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের একটি স্বাভাবিক পদ্ধতি। অন্ধকারে নিজেদের অবস্থান ও এলাকা সম্পর্কে অন্যদের জানান দিতে কিংবা কোনো বিপদ বা অপরিচিত কাউকে দেখলে সতর্ক করতে তারা এভাবে ডাকে।

ভারতের প্রখ্যাত ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ডা. রাকেশ রানা জানান, নিজেদের টিকিয়ে রাখার তাগিদ থেকেই কুকুরের মধ্যে এ ধরনের স্বভাব তৈরি হয়েছে। রাতের নিস্তব্ধ পরিবেশে দীর্ঘ স্বরের ডাকের মাধ্যমে তারা দূরে থাকা সঙ্গীদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করে। একই সঙ্গে নিজেদের অবস্থানও জানিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট প্রাণিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক ড. পলের মতে, রাতে কুকুরের অতিরিক্ত ডাকাডাকির পেছনে মানসিক ও শারীরিক নানা কারণ থাকতে পারে। উদ্বেগ, আশপাশের পরিবেশ থেকে তৈরি হওয়া ভয় কিংবা বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়াও এর কারণ হতে পারে।

কুকুরের রাতের এই ডাকের পেছনে কয়েকটি প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

যোগাযোগ স্থাপন: রাতের বেলায় চারপাশ শান্ত থাকায় কুকুরের ডাক অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। দূরে থাকা অন্য কুকুরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে তারা দীর্ঘ সুরে ডেকে ওঠে।

একাকিত্ব ও মনখারাপ: গবেষণায় দেখা গেছে, পুরোনো এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় চলে গেলে কিংবা মানুষের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে কুকুরের মধ্যে তীব্র মনখারাপ তৈরি হতে পারে। একাকিত্ব ও বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি থেকে অনেক সময় তারা রাতে এভাবে ডাকাডাকি করে।

ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে পারে। এ ছাড়া অপরিচিত পরিবেশ কিংবা আশপাশের কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিও তাদের মাঝরাতে ডাকতে প্ররোচিত করে।

শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যথা: দুর্ঘটনায় আহত হওয়া, গুরুতর অসুস্থতা কিংবা শরীরের কোনো স্থানে ব্যথা থাকলেও কুকুর রাতে তীব্র স্বরে ডাকতে পারে। এ ধরনের ডাকের মাধ্যমে তারা আশপাশের অন্য কুকুর কিংবা মানুষের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করে।

এলাকা পাহারা দেওয়া: কুকুর নিজেদের নির্দিষ্ট এলাকা বা সীমানা রক্ষায় সচেষ্ট থাকে। সেই এলাকায় অন্য কোনো কুকুর কিংবা অপরিচিত প্রাণী প্রবেশ করলে অন্যদের সতর্ক করতে তারা গর্জন বা দীর্ঘ স্বরে ডাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, রাতে কুকুরের অস্বাভাবিক ডাক শুনে কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং প্রাণীটির শারীরিক কোনো সমস্যা রয়েছে কি না কিংবা সে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর