এশিয়ার বৃহত্তম হাওরে এবার ইলিশের আধিক্য, নতুন আশার কথা বলছেন জেলেরা
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৬ PM

এশিয়ার বৃহত্তম হাওরে এবার ইলিশের আধিক্য, নতুন আশার কথা বলছেন জেলেরা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩/০৯/২০২৬ ০২:৩১:১৫ PM

এশিয়ার বৃহত্তম হাওরে এবার ইলিশের আধিক্য, নতুন আশার কথা বলছেন জেলেরা


মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে পরিচিত হাকালুকি হাওরে এবার জেলেদের জালে আগের তুলনায় বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে। স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কয়েক গুণ বেশি ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। এশিয়ার বৃহত্তম এই হাওরে এর আগেও ইলিশ ধরা পড়েছিল।

কুলাউড়া-বড়লেখা-চাঁদগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেছেন। সেসব মাছের সঙ্গে কয়েকটি ইলিশও রয়েছে। ধরা পড়া ইলিশগুলোর ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. ওমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়া জানান, কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। প্রথমবার জাল টানার পর সব মাছ ওঠেনি। পরে চার থেকে পাঁচবার জাল ফেললে কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলেদের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ উঠছে। হঠাৎ করে হাওরের জালে ইলিশ ধরা পড়ায় খুশি তারা। তাদের আশা, ইলিশের পাশাপাশি এবার অন্যান্য দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় প্রতি বছর এখানে ছোট আকারের দুই থেকে চারটি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ তুলনামূলক বেশি পরিমাণে ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

ইলিশের হাওরে প্রবেশের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল হলে হাকালুকি হাওরের পানি কুশিয়ারা নদী হয়ে পদ্মায় গিয়ে মেশে। এ সময় ইলিশ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে চলাচল করে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের বিচরণ ও আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে যুক্ত থাকায় নদীতে থাকা ইলিশ এবার বেশি পরিমাণে হাওরে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, হাকালুকি হাওরে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইলিশের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদী।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হাকালুকি হাওরের আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর। দেশের বৃহত্তম এই হাওরে দেশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি ইলিশও ধরা পড়ছে।

এর আগে ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও হাকালুকি হাওরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।

তবে সময়ের সঙ্গে হাওরটির জীববৈচিত্র্যে পরিবর্তন এসেছে। রানি মাছ, আইড়, শোল, গজার, বাঘা গুতুম ও ইলিশ একসময় হাকালুকি হাওরের পরিচিত মাছ ছিল। নিয়মিত জেলেদের জালে ধরা পড়া এসব মাছের অনেক প্রজাতিই এখন বিলুপ্তপ্রায়। একই সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদও।

হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর